“ফের অনিশচয়তায় পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যক্রম”

নাঈম ইসলাম, রাঙামাটি : এবার পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বাধার মুখে পড়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন। সোমবার রাঙামাটিতে কমিশনের নতুন কার্যালয়ে পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক ডেকেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালাতে পারেননি কমিশন চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হকসহ সংস্থাটির কর্মকর্তারা। ফলে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই নিভেযায় দিনের আলো।

এরআগে পার্বত্য চট্টগ্রামের উগ্রপন্থি ও অস্ত্রধারীদের হরতাল-অবরোধের মুখে দীর্ঘদিন ধরে অচলবস্থায় এই কমিশন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের উগ্রপন্থি ও অস্ত্রধারীদের দাবীর আলোকে কমিশনের আইন সংশোধন করে নতুনভাবে শুরু হয় কমিশনের কাজ। তবে এরমধ্যে পাহাড়ে বসবাসকারি বাঙালীদের কোনো প্রতিনিধি না রাখা এবং প্রশ্নবিদ্ধ আইন নিয়ে কমিশন কার্যক্রম শুরু করে বাঙালীদের বাধার মুখে পড়েছে। আর এতে করে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

এদিনের (২৩ ডিসেম্বর-সোমবার) কার্যক্রমকে সামনে রেখে সকাল থেকেই রাঙামাটি জেলা সদরে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয় বাঙালীরা। আর এই অবরোধের কারণে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে সকল ধরনের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের উপরই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল বাঙালী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত পার্বত্য নাগরিক পরিষদের নেতাদের অভিযোগ, বিতর্কিত এই ভূমি কমিশনে বাঙালীদের কোনো প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি। যার কারণে এই কমিশনের কার্যত্রমে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। কমিশনের আইন সংস্কার করে বাঙালী প্রতিনিধি নিয়োগের বিধান না করা পর্যন্ত কমিশনের সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য কমিশনের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সরকারের প্রতি জোরদাবি জানান তারা।

এদিকে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের নেতাকর্মীদের দুই ঘন্টা সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে আটকে থাকা অবস্থায়ই আন্দোলনকারিদের সাথে যোগাযোগ করেছেন পার্বত্য ভূমি কমিশন কর্তৃপক্ষ। পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতা মোহাম্মদ সোলায়মান জানান, ভূমি কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে বৈঠকে বসার আহবান জানিয়েছে। ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো লিখিত আকারে চেয়েছেন। পরে আমরা আমাদের দাবি গুলো লিখিত আকারে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সরকার যত দ্রুত আমাদের দাবিগুলো মেনে নিবে, তত দ্রুত সময়ে কমিশনের কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। আমাদের দাবি মেনে নিলেই আমরা কমিশনকে সহযোগিতা করবো। পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনটি সংশোধন করা নাহলে আগামীতে পাহাড়ের যে খানেই ভূমি কমিশন বৈঠকের আয়োজন করবে সেখানে তাৎক্ষনিক গণপ্রতিরোধ সৃষ্টি করা হবে বলে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের একাধিক নেতা জানান।

এদিন বেলা সাড়ে এগারোটার সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হকের নেতৃত্বে ভূমি কমিশনের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা, চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, বোমাং সার্কেল রাজা উ চ প্রু চৌধুরী, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা ও বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যা শৈ হ্লা সে বৈঠকে অংশ নেন।##