চট্টগ্রামে রাজাকার ১৯০২ ও মুক্তিযোদ্ধা ৭৫০০

asd_0

চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রামে ১৯০২ রাজাকার ও ৭৫০০ জন মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ড। তবে জেলায় প্রকৃত রাজাকার প্রায় ৩ হাজার বলে জানিয়েছেন সংস্থাটি।

২০১৬ সালের বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আ.ক.ম. রইসুল হক বাহারের স¤পাদনায় প্রকাশিত মুক্তি নামক দ্বি-বার্ষিক প্রকাশনায় চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় এই চিত্র উঠে এসেছে বলে জানায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডার মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, মুক্তি নামক প্রকাশনায় মহান মুক্তিযুদ্ধের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা বাংলাদেশে প্রথম। এর আগে দেশের অন্য কোন জেলায় মুক্তিযুদ্ধের এ ধরণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়নি।

প্রকাশনায় চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার কমান্ডারদের প্রেরিত তথ্য তুলে ধরা হয়। তাতে মহানগর ছাড়া চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন প্রায় সাড়ে ৭ হাজার। এরমধ্যে সরকারের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন ৬ হাজার ৯৭৫জন। অপরদিকে রাজাকারের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। তন্মধ্যে ১৯০২ জনের নাম উল্লেখ করে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, সারাদেশে রাজাকারের নামের তালিকা হালনাগাদ করছে সরকার। এতে আমাদের দেয়া তথ্য তালিকা প্রণয়নে অনেক সহায়ক হবে বলে মনে করি।

মুক্তি নামক প্রকাশনায় উল্লেখ রয়েছে, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি রাজাকার ছিল ফটিকছড়ি উপজেলায়। রাজাকারের সংখ্যা ৩৩৪ জন। আর সবচেয়ে কম সংখ্যক রাজাকার ছিল লোহাগাড়া উপজেলায়। এই উপজেলায় রাজাকার ছিল ২৫ জন।

অন্যান্য উপজেলার মধ্যে মিরসরাইয়ে ১৪৪ জন, সীতাকুন্ড ২৮৮ জন, সন্দ্বীপ ৮৩ জন, হাটহাজারী ১১৪ জন, রাউজান ১১০ জন, রাক্সগুনিয়া ১৭৫ জন, বোয়ালখালী ৩৫ জন, পটিয়া ১২৩ জন, আনোয়ারা ১৪১ জন, চন্দনাইশ ১০১ জন, সাতকানিয়ায় ১০৩ জন এবং বাঁশখালী ১২৬ জন।

অপরদিকে, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি মুক্তিযোদ্ধা ছিল মিরসরাই উপজেলায়। মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। এরমধ্যে সরকারি ভাতা পান ১৭৭১ জন। সবচেয়ে কম মুক্তিযোদ্ধা ছিল লোহাগাড়ায় উপজেলায়। সংখ্যা মাত্র ১০৭ জন। এরমধ্যে সরকারি ভাতা পান ৮০ জন।

চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলার মধ্যে সীতাকুন্ডে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৭০০ জন, ভাতা পান ৬৯০ জন, সন্দ্বীপ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৩০০ জন, ভাতা পান ৭০৫ জন, ফটিকছড়ি মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১০০০জন, ভাতা পান ৯৯০ জন, হাটহাজারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৫৪৯ জন, ভাতা পান ৫২৮ জন, রাউজান মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৫০ জন, ভাতা পান ৩১০ জন, রাঙ্গুনিয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪০০ জন, ভাতা পান ৩১১ জন, বোয়ালখালী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪০০ জন, ভাতা পান ৩৭৫ জন, পটিয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪০০ জন, ভাতা পান ৩৫৯ জন, আনোয়ারা মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৩০০জন, ভাতা পান ২৫৪ জন, চন্দনাইশ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৩৫০ জন, ভাতা পান ১৮৭ জন, সাতকানিয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪১১ জন, ভাতা পান ২৫০ জন এবং বাঁশখালী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২০০ জন, ভাতা পান ১৫৭ জন।

প্রকাশনায় উল্লেখ রয়েছে, চট্টগ্রামে বধ্যভূমির সংখ্যা ৭৮টি। এরমধ্যে বেশি বধ্যভূমি রয়েছে ফটিকছড়ি ও সাতকানিয়া উপজেলায় ১০টি করে। দুইটি করে বধ্যভূমি রয়েছে রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলায়। তবে সন্দ্বীপ উপজেলায় কোন বধ্যভূমি নেই। অন্য উপজেলার মধ্যে মিরসরাই ৭টি, সীতাকুন্ড ৮টি, হাটহাজারী ৫টি, রাউজানে ৯টি, বোয়ালখালী ৭টি, আনোয়ারা ৬টি, লোহাগাড়া ৬টি এবং বাঁশখালীতে ৪টি বধ্যভূমি রয়েছে।

সিটিজিসান.কম/রবি