ভিক্ষুক বানাতে নিজের সন্তানকে অন্ধ করে দিলেন বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
শিশুরা সব চেয়ে নিরাপদ তার বাবা-মায়ের কাছে। আজকাল এই কথাটিও যেনো আর বিশ্বাস হয় না। কিভাবেই বা হবে এত সব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে দিনের পর দিন! বাবা- মায়ের কাছেও সন্তান যেনো নিরাপদ নয়।

একের পর এক ইস্যুগুলোতো তাই প্রমাণ দিয়েছে। কখনও মায়ের হাতে সন্তান খুন কখনও বা বাবার হাতে সন্তান খুন। শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে তারা যে কত নিচে নামছে তার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সম্প্রতি ভারতে এক বাবা তার সন্তানের চোখ অন্ধ করে দিয়েছে।

সোনারপুরের সূর্য সেন কলোনির বাসিন্দা জয়ন্ত চক্রবর্তী তার ছয় মাসের মেয়েকে নিয়মিত ওষধ দিয়ে চোখ অন্ধ করে দিয়েছে তাকে দিয়ে ভিক্ষা করে উপার্জন করবে বলে। আর এই অভিযোগে পুলিশ জয়ন্ত চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে তার মেয়ে ও স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করে নিজেই জয়ন্ত পুলিশের কাছে মা-ভাইয়ের নামে অভিযোগ করে। সে অভিযোগ করে তার মা-ভাই তার সন্তান-স্ত্রীর চোখ এসিড দিয়েছে। কিন্তু তার কথায় অনেক গড়মিল থাকায় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান ওই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, মাস ছয়েকের ওই শিশুর চোখে অ্যাসিড দেওয়া হয়নি। কিন্তু কোনও ওষুধের বিষক্রিয়ায় চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে শিশুটি।

তদন্তে আরো উঠে আসে আগস্ট মাসের যে দিন তার মা ও ভাই অ্যাসিড ছুড়েছিল বলে দাবি করেছিল জয়ন্ত, প্রতিবেশিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় সে দিন সে বা তার স্ত্রী বাড়িতেই ছিল না। শুধু তাই নয় তদন্তে উঠে আসে জয়ন্তের দু’টি বিয়ে রয়েছে। তার প্রথম পক্ষের দুই ছেলে রয়েছে নাম জিৎ ও জুয়েল ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ তারাই জানায় যে, জয়ন্ত ওই শিশুর চোখে নিয়মিত একটি ওষুধ দিত।

এ ঘটনার পর জয়ন্তকে থানায় ডাকা হয়। দীর্ঘ জেরায় জানা যায় তার চারটি বিয়ে ও একাধিক সন্তান রয়েছে। নিজে কোনও উপার্জন করে না। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযুক্তকে জেরা করে কী ওষুধ দেওয়া হয়েছিল সেটি জানা গিয়েছে।

তাছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসকদের রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই ওষুধ নিয়মিত শিশুর চোখে দেওয়ায় কী ধরনের বিষক্রিয়া হতে পারে, সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। ওই ওষুধ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।