বৃদ্ধার ঘরে সন্ত্রাস, খুঁজে পাচ্ছেনা পুলিশ!

শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬:৫৬ পিএম

রাঙামাটি প্রতিনিধি :
পার্বত্য রাঙামাটি সদরের উন্নয়ন বোর্ড এলাকায় দিনে-দুপুরে আঞ্জুমান আরা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে বেধড়ক পিটিয়ে ঘর থেকে বেরকরে দিয়ে দ্বিতল ভবন দখল করে নিয়েছে মো. শাহজাহান নামে ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা। এই ঘটনার পর ঘরহারা ওই বৃদ্ধা থানা পুলিশসহ স্থানীয় বিভিন্ন দফতরে ধরর্ণা দিয়েও কোনো সহায়তা পাননি বলে বৃদ্ধার অভিযোগ। ঘরে ঢুকতে না পেরে গত তিনদিন ধরে দু’কন্যাকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই দিনাতিপাত করছেন বৃদ্ধা আঞ্জুমান আরা।

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটির কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর জাহেদুল হক বলেন, ঘটনাটি বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) হলেও লিখিত অভিযোগ পেয়েছি শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে। এ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তকরে পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছে। থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা নম্বর- ৪, তারিখ : ৬.৯.২০১৯। মামলার ধারা ৪৪৭/৪৪৮/৪২৭/৩২৩/৩২৪/৩৮০/৫০৬। এখন আসামীদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চলছে। তবে এই মুহুর্তে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বৃদ্ধার অভিযোগ, শাহজাহানসহ মামলার অপর আসামীরা ওই ঘরটির বাহির থেকে তালালাগিয়ে দিয়ে ভেতরেই অবস্থান করছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতার বা ঘরটি উদ্ধারের কোনো প্রচেষ্টাই চালাচ্ছেন না।

বৃদ্ধার কন্যা মাহমিন আকতার বলেন, আগামীবার এসএসসি পরীক্ষা দেব। বুধবার সন্ত্রাসীরা মাকে বেধড়ক পিটিয়ে ঘর দখলকরে নেয়, সে সময় আমি স্কুলে ক্লাসে। স্কুল থেকে ফিরে দেখি ঘরের সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। পরে মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

শারমিন বলেন, আমাদের ঘরের সকল মালামাল বাহিরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। আমি স্কুলে যাওয়ার সময় যে কাপড় পড়নে ছিল, সেই এক কাপড় আজ তিনদিন পড়ে আছি। যে বইি ও খাতা সেদিন স্কুলে যাওয়ার সময় নিয়ে গেছি সেগুলোই আমার হাতে, বাকিসব বই, খাতা বাহিরে ছুঁড়ে ফেলে নষ্ট করে ফেলেছে, আমার কি আর পরীক্ষা দেযা হবেনা? বলেই কান্নায় ভেঙে পড়ে শারমনি।

বৃদ্ধা আঞ্জুমান আরা বেগমের এলাকায় গিয়ে এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানাগেছে, শাহাজাহানসহ স্থানীয় কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাস সেদিন এই বৃদ্ধাকে পিটিয়ে ঘর থেকে বেরকরে দেয়। এরআগে শাহজাহানসহ সন্ত্রাসীরা পাশ^বর্তিদের শাসিয়ে যায়, কেউ ঘর থেকে বেরহলে লাশ পড়বে।

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মো. করিম আকবর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি জানার পর ভূক্তভোগীদের থানায় যাওয়ার জন্য বলেছি। ##

Leave a Reply