চট্টগ্রাম নির্বাচন অফিসের এক কর্মচারীসহ তিনজন আটক

সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১.৩০ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: মায়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের ভোটার করা বা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মচারীসহ তিন জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা নির্বাচন কমিশনের লাইসেন্সকৃত যে ল্যাপটপ ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের এনআইডি তৈরি ও জাতীয় তথ্যভা-ারে তথ্য আপলোড করা হতো, সেই ল্যাপটপটি জব্দ করা হয়েছে। আটক তিন জনকে পুুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে ওই তিন জনকে আটক করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনির হোসাইন এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

আটক তিন জনের মধ্যে রয়েছে মো. জয়নাল আবেদীন (৩৫)। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর ডাবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের অফিস সহায়ক। তার সঙ্গে আটক হয়েছে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার মৃত হারাধন দাসের ছেলে বিজয় দাস (২৬) ও তার বোন সীমা দাস ওরফে সুমাইয়া আক্তার (২৪)। বিজয় দাস পেশায় গাড়িচালক। আর তার বোন সুমাইয়া চট্টগ্রাম সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আয়া পদে অস্থায়ীভিত্তিতে কর্মরত রয়েছেন।

এনআইডি জালিয়াতি চক্রেরে এই তিন জনকে আটকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গত মাসে জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে আসা লাকি আক্তার নামে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছিলাম। এ ঘটনার পর ইসির পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আমরা তথ্য পাই, আমাদের অফিসের কেউ কেউ এর সঙ্গে জড়িত আছে। এরপর অনুসন্ধান ও অভিযান চালিয়ে আমরা গত তিন দিনে কক্সবাজার থেকে প্রথমে একজন ও পরে পাঁচ জনসহ মোট ছয় জনকে আটক করি।

হাসানুজ্জামান বলেন, ওই ছয় জনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে (সোমবার) সন্ধ্যায় আমরা ডাবলমুরিং থানার অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তার হেফাজতে নির্বাচন কমিশনের লাইসেন্স করা একটি ল্যাপটপ ছিল। সেটি কোথায় আছে জানতে চাইলে প্রথমে সে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে সে জানায়, ল্যাপটপটি তার বন্ধু বিজয় দাসের কাছে আছে। তার মাধ্যমে আমরা বিজয় দাসকে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে হাজির করি। বিজয় দাস জানায়, ল্যাপটপটি তার বোন সুমাইয়ার কাছে আছে। তাদের মাধ্যমে সুমাইয়াকে ল্যাপটপটি অফিসে আনতে বলা হয়। সুমাইয়া এলে তাকেও আটক করা হয়েছে।

এই চক্রটি কিভাবে এনআইডি জালিয়াতি করেছে— জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান সাংবাদিকদের বলেন, লাইসেন্সকৃত ল্যাপটপটি ব্যবহার করে ওয়েবক্যাম দিয়ে ছবি তোলাসহ জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজই করা যায়। জাতীয় তথ্যভা-ারে এন্ট্রিও দেয়া যায়। এই ল্যাপটপটি ব্যবহার করেই তারা এনআইডি জালিয়াতি করেছে।

এুনীর হোসাইন বলেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কর্মচারী জড়িত থাকার তথ্য আছে। তাদেরও পর্যায়ক্রমে তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে।

মুনীর হোসাইন খান জানান, তিন জনকে আটক করলেও জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে তারা মামলা দায়ের করবেন। বাকি দু’জনকে পুলিশে সোপর্দ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিএমপির কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান বলেন, এনআইডি জালিয়াতি এই চক্রের একজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। বাকি দু’জনকে আমরা আটক করে নিয়ে যাব। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এরআগে এদিন সকালে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার করা বা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেয়ার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত আছে বলে মনে করছি না। তবে সুর্নিদিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।

কবিতা খানম বলেন, ‘কিছুদিন আগে একজন রোহিঙ্গার কাছে কার্ড (স্মার্টকার্ড) পাওয়া গিয়েছিল। ওই কার্ড ২০১৫ সালের। তবে রোহিঙ্গা নাগরিকের নিকট স্মার্টকার্ড পাওয়ার খবর জানতে পেরে ৪৬জন রোহিঙ্গার তথ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা উদ্ধার করেছি। এরা অবশ্য কেউই স্মার্টকার্ড পায়নি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র না পায়, সেজন্য নির্বাচন কমিশন সতর্ক আছে।