ক্লিন ক্যাম্পাসের অনন্য উদ্যোগ

শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮:২০ পিএম

আফছার উদ্দীন, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় :
২০১৯ সালের জুলাই মাস। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারে পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত দেখা গেল একদল তরুনকে। খবর নিয়ে জানা গেল এরা একটা স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের সদস্য। সে সংগঠনটি হলো “ক্লিন ক্যাম্পাস” নামের একটি সংগঠন। লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যই যাদের প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের অপরুপ এই লীলাভূমির সবুজ ক্যাম্পাসকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এবং ” লেটস গো ক্লিন টু কিপ আউর ক্যাম্পাস গ্রীণ” স্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে তারা।

আর সংগঠনটির প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রতিমাসে দুইবার ক্যাম্পাস পরিষ্কার অভিযান পরিচালনা, সচেতনাতা বৃদ্ধি, ডাস্টবিন ব্যবহারে উৎসাহিত করা, ময়লা আবর্জনা সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরনের জন্যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সকলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সংগঠনকে অরাজনৈতিকভাবে পরিচালনা করা। শুরুর দিকে অল্প কিছু সংখ্যক সদস্য নিয়ে পদযাত্রা শুরু করলেও এখন ৫০ এর অধিক সদস্য রয়েছে।

“ক্লিন ক্যাম্পাস” সংগঠনের সদস্যদের সাথে তাদের কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করে জানা যায়, শুরুর দিকে তাদেরকে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। যার মধ্য রয়েছে সদস্য সংখ্যা, ফান্ডিং, ময়লা আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন সংগ্রহ ইত্যাদি। সময়ের পরিক্রমায়, সমস্যাগুলোর ক্রমশ সমাধান হচ্ছে। সংগঠনের উপদেষ্টা মন্ডলীরাই অনুদান বা ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। উপদেষ্টামন্ডলীদের মধ্যে রয়েছে দুইজন শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টম্ববর) দুপুর সাড়ে বারোটায় আবারও দেখা গেল সংগঠনটির সদস্যদের। তবে এবার দেখা গেল ভিন্ন জায়গায়, ভিন্ন পরিবেশে সমাজ- বিজ্ঞান অনুষদের ঝুঁপড়িতে। এসময় পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত ছিল তারা। যুক্ত করা হয় নতুন দুইটি ডাস্টবিন। যাতে করে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলতে সমস্যা না হয় শিক্ষার্থীদের।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে, সংগঠনের এক্সিকিউটিভ সদস্য, সমাজতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোঃ আলহাজ হোসেন আবির জানান, পাহাড়ে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন প্রকৃতির সাজেই স্বজ্জিত থাকে এবং কৃত্রিম ময়লা আবর্জনা যেন, কোনভাবেই আমাদের এই সবুজ ক্যাম্পাসকে দূষিত করতে না পারে সেই ব্যাপারে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

এই বিষয়ে উপদেষ্টা মন্ডলী ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোজাম্মল হক বলেন, সকলের স্বাদিচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে চবির সবুজ ক্যাম্পাসকে খুব সহজেই আমরা পরিচ্ছন্ন রাখতে পারব। এক্ষেত্রে ছাত্র- ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, ইউনিভার্সিটি অটোরিটিকে সাপোর্ট করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের শেষের দিকে ক্লিন ক্যাম্পাস সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হলেও তাদের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৯ জানুয়ারির প্রথমদিকে।

Leave a Reply