এক ব্যক্তির অত্যাচারে অতিষ্ঠ গ্রামবাসির আত্মনাদ

রোববার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:১০ পিএম

নাঈম ইসলাম মুন্না, রাঙামাটি :
পার্বত্য রাঙামাটি সদরের সিলেটি পাড়ার বাসিন্দা দুদু মিয়া নামের এক ব্যক্তির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পুরো গ্রামবাসি। দুদু মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের নিকট জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেতে আত্মনাদ করছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। গ্রামবাসির অভিযোগ, দুদু মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের সন্ত্রাসী কর্মকা-ে মদদ দিয়ে যাচ্ছে জেলা সদরের কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খান নুরুল ইসলাম।

দুদু মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের কবল থেকে মুক্তি ও থানার পরিদর্শক খান নুরুল ইসলামের অপসারণ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসি। রোববার দুপুরে রাঙামাটির স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকা কার্যালয়ে এ সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহিদুল ইসলাম।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মো. ফুলন মিয়া নামের এক যুবক বলেন, এলাকার এক নারীকে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে গোপনাঙ্গে মরিচের গুড়ো লাগিয়ে দিয়েছিল দুদু মিয়া ও তার ছেলেরা। সে ঘটনায় তাদেরকে আইনের আওতায় না নেয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তারা। মো. আব্দুল করিম ও সুচিং চাকমা অভিযোগ, দুদু মিয়া আর তার ছেলেরা তুচ্ছ ঘটনায় জনৈক আলই মিয়াকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। এতে তার হাত ভেঙ্গে যায়। মাথায় ৯টি সেলাই দিতে হয়েছে। আবার উল্টো মামলা করে গণহারে আসামী করা হয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষকে।

ইসমাইল মিস্ত্রি ও রইছ উদ্দিন জানান, জুলুম নির্যাতন করে উল্টো আদালতে ৩/৪টি মামলা দিয়ে এলাকাবাসীকে হয়রানী করছে দুদু মিয়া। এসব মামলার তদন্ত ভার নিয়ে কোতয়ালী থানার পরিদর্শক তদন্ত খান নুরুল ইসলাম অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সন্ত্রাসি কর্মকান্ডে দুদু মিয়াকে মদদ দিয়ে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় ওই পরিদর্শক খান নুরুল ইসলামকে অপসারণ করা না হলে এলাকায় কোনো মানুষ আর শান্তিতে থাকতে পারবে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে মদদ দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন কোতয়ালী থানার পরিদর্শক তদন্ত খান নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জমিজমার বিরোধ নিয়ে দুদু মিয়া আদালতে ৩/৪টি মামলা করেছেন। মামলাগুলোর তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়েছে। তদন্ত কাজে বিঘœ সৃষ্টি করতেই এই সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করা হয়েছে’।

থানাকে না জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করায় কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ওসি বলেন, পরিদর্শক তদন্ত অন্যায় করলে থানাকে জানাবেন তো ক্ষতিগ্রস্তরা।

মরিচের গুঁড়া দিয়ে নির্যাতনের বর্ণনা দেন গৃহবধু শাহিনুর বেগম। তিনি প্রশাসনের নিকট দুদু মিয়া ও তার ছেলেদের শাস্তি দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য : মাস দুয়েক আগে এক নারীকে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে গোপনাঙ্গে মরিচের গুড়ো লাগিয়ে ‘ত্রাস’ সৃষ্টিকরে আলোচনায় আসেন রাঙামাটির তবলছড়ির সিলেটি পাড়ার বাসিন্দা দুদু মিয়া। সেই থেকে বেপারোয়া ভাবে চলছে তার সন্ত্রাসী কর্মকা-।##

Leave a Reply