একই প্লাটফরমে কাজে আগ্রহী দেশের ১২ সিটি মেয়র

সুজাউদ্দিন তালুকদার: দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের সমস্যা অভিন্ন বলে উল্লেখ করে সকল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে নিয়ে একটি মেয়র প্লাটফরম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা-চট্টগ্রামের দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মেয়রদের একটি প্লাটফরমে নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রোববার বিকেল চারটায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চট্টগ্রাম মহানগরের টাইগারপাস চসিক কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সে সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

দেশের সিটি করপোরেশনের বিদ্যমান সকল সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে দু’সিটি মেয়র অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালী করণে সিটি গভার্নেন্স এর উপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনাব আতিক বলেন, ভাববিনিময়ের কোন বিকল্প নেই। পরস্পরের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও ভাববিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যা আমাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সঠিকভাবে সমাজের জন্য কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজনে যা দরকার আমরা তা আশস্থ করলাম। যা প্রয়োগিক ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে যেকোন প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের সাফল্য অর্জিত হয়। তাই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখতে, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে চট্টগ্রামে সফরে আসেন বলে জনাব আতিক উল্লেখ করেন। এ অভিজ্ঞতা আমাদের চলার পথে পাথেয়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নগরীর হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য মেয়র হেলথ কার্ড প্রদান একটি বিরল দৃষ্টান্ত। এ জন্য তিনি চট্টগ্রামের মেয়রকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তিনিও ঢাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আদলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নীতি অনুসরণ করে তা বাস্তবায়নে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে মেয়র দুই কর্পোরেশনের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও ভাববিনিময়ের ক্ষেত্রে সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সচিব রবিন্দ্র শ্রী বড়–য়া, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এম মঞ্জুর হোসেন, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মেয়রের একান্ত সচিব শাহ মোজাহিদ উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল হাসনাত মো. আশরাফুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাসেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী, মেমন মাতৃসদন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. প্রীতি বড়–য়া ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাকসহ কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তথ্যচিত্র প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম রাজস্ব আদায় ও এস্টেটের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।##

Leave a Reply