সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের আতঙ্ক আব্দুল হাই

মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম

আবদুল হাই প্রকাশ মিস্টার

ফেনী | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার ০৭:৩০ পিএম

যুব সমাজকে ভয়াবহ মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে জীবন বাজি রেখে বিনামূল্যে কাজ করে যাচ্ছেন ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার ৮ নম্বর আমিরাবাদ ইউনিয়নের হাবিব উল্যাহ বেপারী বাড়ীর সুলতান আহমদ ছেলে আবদুল হাই মেম্বার প্রকাশ মিস্টার (৩৭)। যেখানে অন্যায়, সেখানে প্রতিরোধে ঝাপিয়ে পড়েন এই যুবক। এই কাজ করতে গিয়ে অসংখ্যবার শত্রুর রোষানলে পড়েছেন তিনি।

বুধবার সকালে সিটিজিসান ডটকমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেছেন।

আবদুল হাই জানান, আমি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি এবং ভবিষ্যতেও করবো না। সমাজের মধ্যে যেখানে অনাচার-ব্যভিচার, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আছে, আমার যুবসমাজকে সাথে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ি। এই প্রতিবাদ করতে গিয়ে অসংখ্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তারপর কখনো এই পথ থেকে পিছু পা হননি, কখনও হবো না ইনশাল্লাহ। আল্লাহ আমার সঙ্গে আছেন, এই বিশ্বাস আমার আছে, তাই বিনামূল্যে এই কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি জানান, এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শত্রুর রোষানলে পড়ে আমার প্রয়াত পিতা আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। আমার বাবার অসম্পূর্ণ কাজ আমি ছেলে হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি, আমি করবো এটাই আমার প্রতিজ্ঞা।
এদিকে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সমাজের একশ্রেণীর মানুষ তার পাশে এসেই দাড়িয়েছে। সাহস যোগায় তার কর্মকান্ডে।

২০১৬ সালের বিশাল ভোটের ব্যবধানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুল হাই। দায়িত্ব পাওয়ার পর তার কর্মকান্ড এতা বেড়ে গেলে সমাজের দুর্ণীতি পরায়ণ ও সন্ত্রাস-মাদকসেবীদের জন্য আতঙ্গে নাম বনে গেল আবদুল হাই।

এছাড়া আব্দুল হাই অন্যায়ের কর্মকান্ডের প্রতিরোধের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সেবামুলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন।

আব্দুল হাই জানান, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাজ থেকে পাওয়া বরাদ্দ দিয়ে আমার এলাকায় প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ সম্পূর্ণ করেছি। কিছু উন্নয়নমূলক অবকাঠামো কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি, শীঘ্রই এগুলো শেষ করা হবে। এছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃকালীন ভাতা, পঙ্গু ভাতা পাওয়ার জ্যন ব্যবস্থা করেছি এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হাই একজন সাদা মনের মানুষ। মানুষের আপদে-বিপদে রাত-দিন কোনো ধরনের স্বার্থ ছাড়াই ঝাপিয়ে পড়েন। গ্রামে যত রাতই হোকনা কেন, এলাকার কারো কোন সমস্যা হলে, মেম্বারের মোবাইলে কল যাওয়ার সঙ্গে তিনি চলে আসেন মানুষের পাশে। স্থায়ীদের কাছে অন্যান্য এক মানুষের নাম আব্দুল হাই মেম্বার।

এইভাবে সারাজীবন মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারলে মানুষ হিসেবে নিজেকে ধন্য মনে করবো আমি- বললেন, আব্দুল হাই।

সিএস/সিএম/এসআইজে