বাংলাদেশ ও ছাত্রলীগ একে অপরের পরিপূরক

shadek

মোহাম্মদ শেখ সাদী :: বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির পতাকাবাহী একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, বিশ্বের যে কয়টি ছাত্র সংগঠন আছে তার মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রথম সারিতেই।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, বাঙালির মুক্তিসনদ ছয় দফার আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, আইয়ুব খানের পতন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়, একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সবকিছুতেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগ একটি রাজনৈতিক সংগঠন হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবসময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কার্যক্রম পালন করে আসছে। সমাজের যেকোনো প্রয়োজনে ছাত্রলীগ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্বাধীনতার পর জাতির পিতার নেতৃত্বে দেশের পুনর্গঠনে কাজ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনের কাজ করেছে।

যুদ্ধের ফলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বহু রাস্তঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনঃনির্মাণ করেছে ছাত্রলীগ। দেশে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সবসময় ঝাঁপিয়ে পড়ে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও ছাত্রলীগের সুনাম আছে। ২০১৫ সালে যখন নেপালে ভূমিকম্প আঘাত হানে তখন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাংলাদেশ থেকে সাহায্য তুলে নেপালে পাঠিয়েছিল। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সমস্যা মোকাবেলায় অনেক উদ্যোগ নিয়েছে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‌‌‘ক্লিন ক্যাম্পাস সেফ ক্যাম্পাস’ নামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা তার বড় উদহারণ। যার উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসের পরিবেশকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখা।

২০১৬ সালের শেষের দিকে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে আন্দোলন করেছে ছাত্রলীগ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তানের শোষণ থেকে বাঙালিকে রক্ষা করা থেকে শুরু করে বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শোষণ থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্তিতে সফলভাবে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি দুস্থ শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, রক্তদান, বৃক্ষরোপন, পথশিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ পাঠদান কর্মসূচি ছাত্রলীগের দীর্ঘদিনের চর্চা। ‘রূপকল্প ২০২১’ ও ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেও দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

আজ ১৬ কোটি মানুষকে নিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুনিপুণ কারিগর, দেশরত্ম শেখ হাসিনার হাত ধরে ছাত্রলীগ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গর্ব করে বলেছিলেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস, বাঙালির ইতিহাস। এ কথারই প্রতিফলন বর্তমান ছাত্রলীগ।

আজ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্মদিনে আমি ছাত্রলীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হয়ে বলতে চাই প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত দেশের স্বার্থে-দশের স্বার্থে, আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্রলীগের যেসব নেতা কর্মী শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মার মঙ্গল কামনা করে, বঙ্গবন্ধর আদর্শ বুকে লালন করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে, অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্ছার হয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এই কামনা করি।

মেম্বার, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম আইন কলেজ, shadi.luxmi@gmail.com

সিটিজিসান.কম/রবি