সেই বাড়িটি ছাড়তে মেয়রের ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:০২ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি-
দিনে-দুপুরে বৃদ্ধাকে পিটিয়ে বেরকরে দখলে নেয়া সেই দ্বিতল বাড়ি ছেড়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে চলে যাওয়ার জন্য দখলদারদের নির্দেশ দিয়েছেন রাঙামাটির পৌরসভার মেয়র। ওই বাড়ির মালিক দাবিবার বৃদ্ধার লিখিত অভিযোগ ও দলিলপত্র যাচাই করে দখলদারদের বাড়িটি ছেড়ে যাওয়ার এই সময় বেঁধে দেন মেয়র। সে সময় পৌরসভার ৯ পুরুষ ও ৩ নারী কাউন্সিলরসহ পৌর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী জানান, ওই বাড়ির মালিক বৃদ্ধা নারীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে জেলা সদরের উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করি। সেখানে গিয়ে ঠিকই শাহজাহান নামক এক ব্যক্তির পরিবারকে সেই বাড়িতে অবস্থান করতে দেখা যায়।

দখলকারি শাহজাহানকে বাড়ির তার দলিলপত্র দেখাতে বালি। তবে তিনি যুক্তিযুক্ত কোনো গায়ের জোর ব্যতীত কাগজপত্র কিছুই দেখাতে পারেননি। আর ওই বাড়ির মালিক দাবিদার বৃদ্ধা নারী আনজুমান আরার সকল দলিলপত্র এলাকাবাসির স্বাক্ষ্য প্রমানের দেখা যায় বাড়িরটি মালিক সেই বৃদ্ধা নারী। তাই বাড়িটি চেড়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেই।

মেয়র বলেন, এ বাড়ি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। তবে আদালতে দলিলপত্র উপস্থাপনে ব্যর্থহয়ে গায়ের জোরেই বাড়িটি দখলে নেয় শাহজাহান। আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত এমন কিছু করা আদালত ও আইনের প্রতি অশ্রদ্ধার সামিল। আইনের তোয়াক্কা না করে কেউ কাউকে বাড়ি থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বেরকরে দিয়ে বাড়ি দখল করে নিবে” আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখে থাকবো এমনটা হতে পারেনা”।

এতে সন্ত্রাসীরা উৎসাহ পাবে। এভাবেই বাড়ি দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে। এটা কখনোই হতে দেয়া যায়না।

এরআগে গত বুধবার (৪ই সেপ্টেম্বর) রাঙামাটির উন্নয়ন বোর্ড এলাকায় দিনে-দুপুরে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়ির মালিককে মারধর করে বের করে দিয়ে বাড়িটি দখল করে শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।তারা জানায়, লংগদুর শাহজাহান নামের এক ব্যক্তি ও তার মেয়েরা দিনে-দুপুরে হামলা চালিয়ে আঞ্জুমান আরা বেগমের দ্বিতল বসতঘরটি দখলে নেয়।

এসময় বাধা দিতে গেলে বাড়িটির মালিক বৃদ্ধা আঞ্জুমান আরা বেগম ও কন্যাকে জোর করে মারধর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে শাহজাহান ও কন্যারা। বৃদ্ধার ঘরের সকল মালামাল ঘরের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয় ওই দখলদাররা।

এঘটনার পর রাঙামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনির রহস্যজনক এক অবস্থান দেখা যায়। ওসি বলেন, ঘটনা শুনেছি তবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ক্যামেরার সামনে কথা বলা যাবেনা। ঘটনার তিন অতিবাহিত হলেও মামলা নিতে দেখাযায় গড়িমসি। পরে দায়সাড়াভাবে মামলা রেকর্ড করলেও গত সাত দিনেও ঘটনাস্থলে দেখা মিলেনি মামলার কোনো তদন্তকারী কর্মকর্তার।##