বেগম জিয়ার দেশে না ফেরার কারণ

অনলাইন ডেস্ক :
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সহসাই দেশে ফিরছেন না। এমনকি কবে নাগাদ দেশে ফিরছেন দলের নেতারাও সুনির্দিষ্ট করে তা বলতে পারছেন না। তবে এ মাসে তার দেশে না ফেরার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে খালেদা জিয়া দেশে ফিরতে পারেন, যদিও তা চূড়ান্ত নয়। তার দেশে ফেরা আরো বিলম্ব হতে পারে। লন্ডন বিএনপি ও দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু চিকিৎসাই নয়, মূলতঃ মামলার কারণেই খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা আরো বিলম্ব হতে পারে। দেশে থাকলে বেশ কয়েকটি মামলা দ্রুত শুনানি হতে পারে। যে কারণে তিনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর দেশে ফিরতে চান।

তাদের ভাষ্য, দেশে বর্তমানে ‘রাজনৈতিক কোনো সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায়’ একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে আপতত কোনো কর্মসূচি হাতে নিতে পারছেন না চেয়ারপারসন। দেশের বেশ কয়েকটি জেলা বন্যা কবলিত, কোনো কোনো জেলায় বানভাসীদের পুনর্বাসন চলছে। যোগ হয়েছে রোহিঙ্গা সংকট। এর মধ্যে সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করতে চান না তিনি।

বন্যা ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার পর সুবিধামত সময় নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার রূপরেখা ঘোষণা দিয়ে জনমত গঠনে মাঠে নামতে চান বিএনপি প্রধান এমনটাও জানিয়েছেন দলের কেউ কেউ।

জানতে চাইলে লন্ডন বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ম্যাডাম নিয়িমিত চেকাপ করাচ্ছেন। চোখের অপারেশন হয়েছে। এখনো পায়ের চিকিৎসা হয়নি। চিকিৎসা শেষ হলেই খুব দ্রুতই দেশে ফিরবেন।’

তিনি বলেন, ‘এখন মূলত তিনি বিশ্রামে আছেন। নাতনিদের স্কুল-কলেজ বন্ধ। তারা এখন সবসময় বাসায় থাকেন। ম্যাডাম উনার নাতনিদের সব সময় কাছে পাচ্ছেন। এছাড়াও পুত্রবধূদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। এমন সুযোগ তো সব সময় পান না তিনি। তাই দেশে ফেরা একটু বিলম্বিত হচ্ছে।’

গত ৬৬ দিন ধরে লন্ডনে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় উঠেছেন তিনি। বাসায় তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান রয়েছেন। এছাড়া ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান, তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানও সেখানে রয়েছেন।

একান্তই ব্যক্তিগত সফর গেলেও সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন কী করছেন, কবে দেশে ফিরবেন তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালে ১৬ সেপ্টেম্বর একবার খালেদা জিয়া লন্ডন যান। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ওঠেন তিনি। ৬৬ দিন লন্ডনে অবস্থান করে ২১ নভেম্বর দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন। কিন্তু এবার ইতোমধ্যে ৬৬ দিন অতিক্রম হয়ে গেলেও কবে নাগাদ তিনি দেশে ফিরবেন তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারছেন বিএনপির কেউই।

এদিকে স্বাধীনতা বিরোধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে এক মামলায় খালেদা জিয়াকে আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নূর নবী রোববার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে শেষবারের মতো সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আত্মসমর্পণ করার জন্য এ নির্দেশ দেন।

এছাড়া খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার ১১ মামলায় হাজিরার জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাও চলমান আছে।

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেজবাহ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘স্বাধীনতা বিরোধীদের মদদ নিয়ে মামলাটিতে ম্যাডামকে এখনই আদালতে উপস্থিত হতে হবে এমন নির্দেশনা দিতে পারেন না আদালত। সমন অথবা ওয়ারেন্ট দিতে পারেন আদালত। জানি না কি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাও চলমান আছে। মামলার কারণে ম্যাডাম দেশে ফিরতে দেরি করছেন এটা বলা যাবে না। তিনি চিকিৎসা শেষে দ্রুতই দেশে ফিরবেন।’

লন্ডন বিএনপির এক নেতা জানিয়েছেন, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে খালেদা জিয়া দেশে ফিরতে পারেন। তবে এখনো তা চূড়ান্ত নয়। চলতি সপ্তাহে তাকে আবারো চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসকেরা ছাড়পত্র দিলে কেবল তিনি দেশে ফিরবেন।

বিএনপি নেতাদের দাবি, খালেদা জিয়া বিদেশে অবস্থান করলেও দেশের রাজনীতির খোঁজখবর রাখছেন প্রতিনিয়তই। কোনো প্রয়োজন হলে দলের মহাসচিবকে নির্দেশেনা দিচ্ছেন। দেশে বন্যার্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার নির্দেশনা খালেদা জিয়াই দিয়েছেন।

খালেদা জিয়া কবে নাগাদ দেশে ফিরতে পারেন এমন প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সোমবার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এটা তো ম্যাডামও বলতে পারবেন না, আমিও বলতে পারবো না। উনার চিকিৎসকরা যেদিন বলবেন সেইদিন তিনি আসতে পারবেন।’

তিনি জানান, খালেদা জিয়ার চোখের চিকিৎসা শেষ হছে। এখন উনার দুই হাঁটুর চিকিৎসা চলছে।

চেয়ারপারসনের পরামর্শ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান ড. মোশাররফ।

চোখ ও পায়ের চিকিৎসা করাতে গত ১৫ জুলাই ঢাকা ছাড়েন খালেদা জিয়া। এক মাসের মধ্যে তার ফেরার কথা ছিল। গত ৮ আগস্ট লন্ডনের মুরফিল্ড হাসপাতালে তার ডান চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে। অপারেশন পরবর্তী পরিচর্যা চলছে। এখন পায়ের চিকিত্সা করাবেন। তিনি পায়ের গোঁড়ালির সমস্যায় ভুগছেন অনেকদিন ধরে। জানা গেছে, পায়ের চিকিত্সককে দেখানোর সময় নির্ধারণ হয়েছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, পায়ের চিকিৎসা শেষ হলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে চেয়ারপারসন দেশে ফিরবেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হলেও খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।