গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি ছাড়ছেন গ্রামীণফোন

অনলাইন | সিটিজিসান.কম

ঢাকা: এক সময়ে জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটর কোম্পানী ছিল গ্রামীন ফোন। রেট বেশি, তারপর স্মার্ট ও স্বাচ্ছন্দবোধের কারণে বেশিভাগই ব্যবসায়রা এই অপারেটরের সিম ব্যবহার করতো। কিন্তু নানান সমস্যা, রেট বেশি, ঘন ঘন নেট ওয়ার্ক প্রবলেমের কারণে গ্রাহকের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে সম্প্রতি এমন তথ্য প্রকাশ করেছে বিটিআরসি।

এছাড়া গ্রাহকরা মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে রবিতে যেতে আগ্রহী বেশি অনেকেই। আর ছেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা শীর্ষে। মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা চালুর পর গত ১৮ দিনে রবিতে গেছেন ১৬ হাজার ৯১৬ জন গ্রাহক। বিপরীতে গ্রামীণফোন ছেড়ে যাওয়া গ্রাহকের সংখ্যা ১১ হাজার ৬৭৬। রোববার বিটিআরসি থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জানা যায়, গত পহেলা অক্টোবর দেশে প্রথমবারের মতো এমএনপি সেবা চালু হয়। এর ফলে আগের নম্বর ঠিক রেখে এক অপারেটরের গ্রাহক অন্য অপারেটরে যেতে পারছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সেবা চালু আছে।

রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার উদ্বোধন করেন। এর আগে সেবাটি চলছিল পরীক্ষামূলকভাবে।

বিটিআরসির তথ্যানুযায়ী, গত ১৮ দিনে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদল করতে আবেদন করেছেন ৪৭ হাজার ৯০ জন। এর মধ্যে অপারেটর বদলে সফল হয়েছেন ২৬ হাজার ৮১৭ জন। আবেদন বাতিল হয়েছে ২০ হাজার ২৫৫ গ্রাহকের। আর যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বাকি ১৮ জনের আবেদন।

বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, এমএনপি সেবার আওতায় অন্য অপরেটর থেকে রবিতে গেছেন ১৬ হাজার ৯১৬ জন গ্রাহক। বাংলালিংকে গেছেন ৫ হাজার ৫২৬ জন, গ্রামীণ ফোনে ৪ হাজার ৪১ জন এবং টেলিটকে গেছেন ৩৩৪ জন। হিসাব অনুযায়ী, রবিতে যাওয়া গ্রাহকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

এদিকে সফলভাবে গ্রামীণফোন ছেড়েছেন ১১ হাজার ৬৭৬ জন। রবি ছেড়েছেন ৫ হাজার ৯৭৩ জন, বাংলালিংক ৮ হাজার ৯১৬ জন ও টেলিটক ছেড়েছেন ২৫২ জন। আর আবেদন করেও অপারেটর বদল করতে ব্যর্থ হয়েছেন ২০ হাজার ২৫৫ জন গ্রাহক। বকেয়া বা মোবাইলে ব্যালেন্স না থাকার কারণে অপারেটর বদলে ব্যর্থ হয়েছেন ওই সব গ্রাহক।

অপারেটর বদলে খরচ কমাচ্ছে সরকার। বর্তমানে অপারেটর বদলে গ্রাহকের খরচ ১৫৮ টাকা। যার মধ্যে সিম পরিবর্তনে করের পরিমাণ ১০০ টাকা। আর এই কর উঠিয়ে দিতে সম্মতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের ৭২টি দেশে এমএনপি সেবা চালু আছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ২০১১ সাল থেকে এবং পাকিস্তান ২০০৭ সাল থেকে এমএনপি সেবা দিচ্ছে।

সিএস/সিএম/এসআইজে