অন্ধ শ্রীকান্ত এখন ৫০ কোটি টাকার মালিক!

srikanta_220161019034102

অনলাইন ডেস্ক ::

অন্ধ শ্রীকান্ত এখন ৫০ কোটি টাকার মালিক! শ্রীকান্ত বোলা গরিব পরিবারের জন্ম নিয়ে পরিবারের ঝামেলা হয়েছিলেন। অন্ধ হওয়ায় তাকে স্কুলে ভর্তি নেয়নি। প্রতিবেশীদের কাছে ছেলেকে নিয়ে অনেক অপমানের শিকার হয়েছেন শ্রীকান্তের বাবা-মা।

বর্তমানে সেই হতদরিদ্র, অন্ধ্ব শ্রীকান্ত ৫০ কোটি টাকার কোম্পানির মালিক। প্রায় ৬৪০ জন কর্মচারি তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। জন্মের পর প্রতিবেশীরা শ্রীকান্তের বাবা-মাকে বলেছিলেন, সে তো অন্ধ, কোন কাজ করতে পারবে না। সারাজীবন পিতামাতার বোঝা হয়ে থাকবে। প্রায় ২৪ বছর পর শ্রীকান্ত বোলা প্রমাণ করেছেন তাদের কথাটা ভুল ছিল।

বিশ্ব তাকে বলেছিলেন, ‘শ্রীকান্ত বোলা তুমি তো কিছুই করতে পারবা না।’ দারিদ্রকে জয় করে আজ তিনি বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করে বলছেন, ‘হে বিশ্ব তুমি দেখ আমি সবকিছুই করতে পারি।’ দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার স্কুল তাকে বিজ্ঞান বিভাগ নিতে দেননি। কারণ তিনি অন্ধ। একজন শারীরিক প্র্র্রতিবন্ধী। কিন্তু তিনি সহজেই দমে যাননি। মাস্যাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করেছেন।

অবশেষে তাকে ভর্তি নিতে বাধ্য হয়েছিল মাস্যাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি। শ্রীকান্তই প্রথম প্রতিবন্ধী ছাত্র ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের। পরে মাস্যাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি কর্তৃপক্ষও বুঝতে পারে যে, তার মত মেধাবী ছাত্রকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা তাদের ঠিক হয়নি। সে বছরই প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন হয়। মাস্যাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে ভর্তি হয়ে রীতিমত ভালো ফলাফল করেছেন শ্রীকান্ত বোলা। বিজ্ঞান বিষয়ে ৯৮% নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষকে। ৯৮% নম্বর পেয়ে পাশ করা সহজ কথা নয়। তিনি এখন হাইদ্রাবাদের বোলান্ট ইন্ডাস্ট্রির মালিক। তার কোম্পানিতে ৬৪০ জন কর্মচারি কাজ করছেন। যাকে একদিন অন্ধ বলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেননি।

আজ তার কোম্পানিতে অন্ধ ও শারীরিক প্রতিবন্ধীরা কাজ করছেন। আজ তিনি হুবলি (কর্ণাটক), নিজামাবাদ (তেলেঙ্গানা) এবং হায়দ্রাবাদে (তেলেঙ্গানা) দুটিসহ মোট চারটি উৎপাদন কারখানার মালিক। তাছাড়া শ্রীসিটেতে আরও একটি উৎপাদন কারখানা প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছেন। সে প্রতিষ্ঠানটি পুরোটায় সোলার সিস্টেমের আওতায়। এজন্য তার নাম দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন তার কোম্পানির ৫০ কোটি টাকার ব্যাংক ডিপোজিট। শ্রীকান্ত এখন নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ মনে করছেন। তবে কোটিপতি হওয়ার জন্য নিজেকে সুখি মনে করছেন না।

তিনি নিজেকে সুখি মনে করছেন এই ভেবে যে, আজ তিনি সবাইকে মিথ্যা প্রমাণ করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আর যারা তার বাবা-মাকে অন্ধ ছেলে জন্ম দেওয়ার ঘৃণা করেছিলেন, তারা আজ নিজেদের ভুল বুঝতে পারছেন। অন্ধ হয়ে জন্ম নিয়ে নিজেকে খুবই অসহায় মনে করতেন শ্রীকান্ত। তবে কখনো ভেঙে পড়েননি। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রেখে এগিয়ে গেছেন। শ্রীকান্ত বলেন, ‘আমি অন্ধ হয়ে জন্মগ্রহণ করিনি। আমার চারপাশের পরিবেশ আমাকে অন্ধ করেছে।

তবুও আমি আমার পথ চলেছি।’ অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন অন্ধ হিসেবে জন্মগ্রহণ করলেও সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। যারা অন্ধ তারাও মানুষ। ঈশ্বর তাদেরকেও মাথা দিয়েছেন। তাদেরও বুদ্ধি আছে। কিন্তু যখন একজন অন্ধকে তার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়, তখনই তাকে প্রকৃত অন্ধ বানানো হয়। যেভাবে স্কুলে ভর্তি না নিয়ে আমাদের সমাজ তাকে অন্ধ বানাতে চেয়েছিল। সফল হয়ে আইএনকে নামের এক প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

সেখানে তিনি বলেন, ‘সমবেদনা মানুষকে বাঁচতে সাহায্য করে। একটু সাহায্য মানুষের জীবনকে এগিয়ে নেয়। ভালোভাবে বাঁচতে সাহায্য করে। টাকা পয়সার ধনীরা প্রকৃত ধনী নয়। যারা সুখি তারাই প্র্রকৃত ধনী।’ এখন তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কনফারেন্সে বক্তৃতা দেন। মানুষকে মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান। তাকে দেখে হাজারও প্রতিবন্ধী বাঁচার অনুপ্রেরণা পায়।

সিটিজিসান.কম/শিশির