২৪৬ রানে আটকে দিল বাংলাদেশ

অনলাইন | সিটিজিসান.কম

চট্টগ্রাম: ম্যাচে শিশিরের প্রভাব পড়বে, তা আগেই জানত দুই দল। তাইতো দুই অধিনায়কই টসের সময় বললেন, টস জিতে বোলিং করার ইচ্ছে তাদের।

এদিকে মাশরাফি বিন মুর্তজার পাশে দাঁড়ালেন। বাংলাদেশের অধিনায়ক জিতলেন টস। বোলিং বেছে নিয়ে ভুল করেননি অধিনায়ক। জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে বোলিং শক্তির পূর্ণ জানান দিল বাংলাদেশ। সফরকারীরা শুরুটা ভালো করলেও শেষটা রাঙাতে পারেনি।

৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ২৪৬ রান। ১-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিততে করতে হবে ২৪৭ রান। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আরেকটি সিরিজ জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার পর মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা গড়লেন প্রতিরোধ। একজন পেলেন হাফ সেঞ্চুরি। দুজন পেরিয়েছেন চল্লিশের ঘর। কিন্তু তাদের ফিরিয়ে জিম্বাবুয়েকে অল্প রানে আটকে রাখলেন বাংলাদেশের বোলাররা।

বড় রানের লক্ষ্যে দারুণ ব্যাটিং করছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের দ্যুতি ছড়ানো বোলিংয়ে বড় পুঁজি পেল না সফরকারীরা। জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্রেন্ডন টেলর করেন সর্বোচ্চ ৭১ রান। বাংলাদেশের সেরা বোলার পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ক্যারিয়ার সেরা ৪৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

দলীয় ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। পেসার সাইফউদ্দিনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা (১৪)। দ্বিতীয় উইকেটে ৫২ রানের জুটি গড়েন চেফাস ঝুওয়াও ও ব্রেন্ডন টেলর। অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজকে ওড়াতে গিয়ে লং অফে ফজলে মাহমুদের হাতে ধরা পড়েন ২৭ বলে ২০ রান করা ঝুওয়াও।

এরপর বাংলাদেশকে চেপে ধরেন টেলর ও উইকেটে আসা শন উইলিয়ামস। দুজনের ৭৭ রানের জুটিতে রানের চাকা সচল হয় জিম্বাবুয়ের। শুরু থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করতে থাকেন টেলর। উইকেটে এসে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন উইলিয়ামস। তাদের জুটি মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নিয়মিত স্পিনার নাজমুল ইসলাম ও মিরাজকে সরিয়ে মাহমুদউল্লাহর হাতে বল তুলে দেন মাশরাফি। তাতেই পথের কাঁটা দূর হলো।

আক্রমণাত্মক খেলা টেলরকে এলবিডব্লউ করেন মাহমুদউল্লাহ। ৪২ রানে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যাওয়া টেলর ফেরেন ৭৫ রানে। ৭৩ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। ক্রিজে আসা সিকান্দার রাজা দ্রুত রান তোলেন। উইকেটের চারপাশে শট খেলে বড় রানের ইঙ্গিত দেন সিকান্দার। উইলিয়ামকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৪১ রানের জুটি।

কিন্তু পেসাররা বোলিংয়ে ফিরলে দুই ব্যাটসম্যানই পথ হারায়। হাফ সেঞ্চুরির আগে আউট হন দুজনই। পেসার সাইফউদ্দিনের বলে উইলিয়ামস (৪৭) ও মাশরাফির বলে রাজা (৪৯) মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর আর দলের স্কোর কেউ বাড়াতে পারেননি। পিটার মুর ১৭ রান করে দলের স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করেন।

সাইফউদ্দিন ৪৫ রানে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি, মুস্তাফিজ, মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহ। বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ৪৩ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।

বোলাররা নিজেদের কাজটা ভালোভাবেই করে রাখলেন। এবার ব্যাটসম্যানদের পালা। ব্যাটসম্যানদের ব্যাট হাসলে হাসবে বাংলাদেশও। স্বাগতিকরা আজই সিরিজ নিশ্চিত করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।

সিএস/সিএম/এসআইজে