১৫০ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী চূড়ান্ত

অনলাইন | সিটিজিসান.কম


ঢাকা | ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার ১১:১৫ এএম |
একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রায় প্রতি আসনেই একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তার সুফলও মিলেছে অনেক আসনে। বিভিন্ন কারণে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও অন্য প্রার্থী টিকে রয়েছেন।

তবে যাচাই-বাছাই শেষে অনেকে প্রার্থিতা হারালেও একাধিক প্রার্থী রয়েছেন অনেক আসনেই। সে কারণে এরই মধ্যে ১৫০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি।

গত সোমবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভিডিও কনফারেন্সে রেখে এসব প্রার্থী চূড়ান্ত করে স্থায়ী কমিটি। এরই মধ্যে প্রার্থী হিসেবে যাদের চূড়ান্ত করা হয়েছে তাদের ফোনে জানিয়েও দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতা থাকায় ৯ ডিসেম্বরের আগে ৩০০ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে কাজ করেন দলটির সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা।

বৈঠকের শুরুতে দেখা হয়, যাচাই-বাছাইয়ে কোন কোন আসনে মূল প্রার্থী বাদ পড়েছেন এবং তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন আসনে ১৪১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আর বিএনপি নেতারা বলছেন, এর মধ্যে তাদের মূল প্রার্থী রয়েছেন ৭৫ থেকে ৮০ জন। বিশেষ করে বগুড়া-৭, ঢাকা-১, মানিকগঞ্জ-২, জামালপুর-৪, শরীয়তপুর-১ এবং রংপুর-৫ আসনে এখন তাদের কোনো প্রার্থীই নেই। এ কারণে তারা কিছুটা জটিলতায় পড়েছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা তারা মনে করছেন, সরকার যতই কৌশল করুক, লাভ হবে না। শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়ায় তারা মূল প্রার্থীদের ভোটের মাঠে নিয়ে আসতে সক্ষম হবেন।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি ও জোটের একক প্রার্থী এবং দলটির সিনিয়র নেতারা বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে যেসব আসনে যাচাই-বাছাইয়ে ধানের শীষের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তা নিয়ে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। বৈঠকে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ।

তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে যেসব আসন নিয়ে দরকষাকষি হচ্ছে অথবা ত্রুটির কারণে যেসব আসনে মূল প্রার্থী বাদ পড়েছেন, সেখানে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‌‌আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে দুই-একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, একক প্রার্থী হিসেবে যাদের চূড়ান্ত করা হয়েছে- চট্টগ্রাম-১০ আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।

কক্সবাজার-১ হাসিনা আহমেদ, কক্সবাজার-৩ লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ শাহজাহান চৌধুরী।

ফেনী-১ রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ জয়নুল আবেদীন, নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ জয়নুল আবদীন ফারুক, নোয়াখালী-৩ বরকত উল্লাহ বুলু, নোয়াখালী-৪ মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজিম, লক্ষ্মীপুর-২ আবুল খায়ের ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

কুমিল্লা-১ খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা-৬ আমিনুর রশীদ ইয়াসিন।

চাঁদপুর-৪ এমএ হান্নান, চাঁদপুর-৫ ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।

মৌলভীবাজার-৩ নাসের রহমান, সিলেট-২ তাহমিনা রুশদীর লুনা, মাদারীপুর-৩ আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, শরীয়তপুর-২ শফিকুর রহমান কিরণ, শরীয়তপুর-৩ মিয়া নুরুদ্দিন অপু, ঝালকাঠি-১ ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, টাঙ্গাইল-৬ গৌতম চক্রবর্তী, জামালপুর-৩ মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ময়মনসিংহ-১ এমরান সালেহ প্রিন্স, সিরাজগঞ্জ-২ রুমানা মাহমুদ, মেহেরপুর-১ মাসুদ অরুণ, কুষ্টিয়া-৩ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ মেহেদী আহমেদ রুমী, চুয়াডাঙ্গা-১ শামসুজ্জামান দুদু, যশোর-৩ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মাগুরা-২ নিতাই রায় চৌধুরী, নেত্রকোনা-৪ তাহমিনা জামান, কিশোরগঞ্জ-১ রেজাউল করিম খান চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৬ শরীফুল আলম, মুন্সীগঞ্জ-১ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মুন্সীগঞ্জ-২ মিজানুর রহমান সিনহা, ঢাকা-৩ গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস, ঢাকা-১২ সাইফুল আলম নীরব।

বাগেরহাট-২ এমএ সালাম, খুলনা-১ আমির এজাজ খান, খুলনা- ২ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আজিজুল বারী হেলাল, সাতক্ষীরা-১ হাবিবুল ইসলাম হাবিব, বরগুনা-২ নুরুল ইসলাম মনি, পটুয়াখালী-১ আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-৪ এবিএম মোশাররফ হোসেন, ভোলা-৩ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভোলা-৪ নাজিম উদ্দিন আলম, বরিশাল-১ জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৫ মজিবুর রহমান সরোয়ার, গাজীপুর-৫ ফজলুল হক মিলন, নরসিংদী-১ খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-২ ড. মঈন খান, নরসিংদী-৪ সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফরিদপুর-২ শ্যামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, পঞ্চগড়-১ ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ঠাকুরগাঁও-১ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, লালমনিরহাট-৩ আসাদুল হাবিব দুলু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ অধ্যাপক শাহজাহান, রাজশাহী-২ মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আবু হেনা, নাটোর-২ সাবিনা ইয়াসমিন ছবি।

সিএস/সিএম/এসআইজে