শীত মৌসুমে গ্যাস সংকটে পড়েছে চট্টগ্রামবাসি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম

চট্টগ্রাম | ১১ জানুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার ০৩:০৫ পিএম |

শীতের কারণে চট্টগ্রামে বেশিভাগ এলাকায় গ্যাস সমস্যায় পড়ে নগরবাসি। বিশেষ করে সকাল-দুপুর পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় গ্যাস চাপ কম থাকায় সংকটে পড়ে নগরের অধিকাংশ এলাকায়।

কেজিডিসিএল সুত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর শীতকালে অন্যান্য সময়ের তুলনায় গ্যাসের ব্যবহার বেশি। এসময় গ্যাস সংযুক্ত এলাকায় প্রায় ২০ শতাংশ অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার হয়। বিশেষ বাসাবাড়িতে শীতের সময়ে গরম পানির ব্যবহার বেশি, বার বার রান্না গরম করা সহ নানান কাজে এর ব্যবহার বেশির কারণ এই সংকট হয়।

এ ছাড়া শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় গ্যাসের স্বাভাবিক যে প্রবাহ তা ঠিক থাকে না। এসময় গ্যাসের লাইনে তেল জাতীয় পদার্থ জমে যায় ও পাইপের ভেতরে গ্যাস ঘন হয়ে যায়। এই সব কারণে তৈরি হয় গ্যাস সংকট। ফলে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এই গ্যাস সংকট দেখা যায়।

সরেজমিনে জানা যায়, মহানগরের ইপিজেড, মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর, আগ্রবাবাদ, কোতয়ালি, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গ্যাস সংকটে পড়েছে নগরবাসি।

জানতে চাইলে ইপিজেডে কাজ করেন মো. ইকবাল হোসেন নামে এক পোশাক শ্রমিক জানান, শুক্রবার আমার অফিস বন্ধ তাই সারাদিন পরিবারকে নিয়ে সময় দেই। কিন্তু কি বলবো সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে নাস্তা খাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপক্ষো করতে হয়। গ্যাস চাপ খুবই কম। ইপিজেডে পুরো এলাকায় এই সমস্যা।

ব্রাক ব্যাংক কর্মকর্তা মো.জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, শুক্রবার-শনিবার দুইদিন বন্ধ থাকে আমার অফিস। আমার অনেক আতœীয়রা এসময় বেড়াতে আসেন আমার বাসায়। কিন্তু সকাল গ্যাসের চাপ কম থাকায় সময় মতো আর কাউকে মেহমানদারি করা যায় না।

কেজিডিসিএল সুত্রে বলছে, বর্তমানে চট্টগ্রামে দৈনিক গড়ে গ্যাসের চাহিদা ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু এর বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে দুপুর ২টার পর আবার ধীরে ধীরে তা স্বাভাবিক হয়।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল)’র কর্মকর্তা মোহময় দত্ত বলেন, শীতকালে নগরে বিভিন্ন এলাকায় অন্যান্য সময়ের চেয়ে একটু গ্যাসের চাহিদা বেশি হয়। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত শীতের কারণে গ্যাসের পাইপ লাইনে তেল জাতীয় পদার্থ জমে যাওয়ায় গ্যাসের প্রবাহ ঘন হওয়ার কারণে এই সংকট দেখা দেয়। এই সমস্যাটা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বেশি থাকে বলে তিনি জানান।

সিএস/সিএম/এসআইজে