শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে চার স্কুলের সামনে হাট

panchagarh-school-hat-pic-6

পঞ্চগড় ::
পঞ্চগড় সদর উপজেলার চারটি স্কুলের সামনের মাঠে নিয়মিত বসছে হাট। হাটের দিন নিয়ম বহির্ভূতভাবে আগে ভাগেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দেয়া হয়। ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খারাপ ফলাফল করার পাশাপাশি ওই বিদ্যালয়গুলোতে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে, মাঠে হাট বসার কারণে মানসিক ও শারীরিক উৎকর্ষের জন্য খেলাধুলাও করতে পারছে না ওইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কাজল দিঘী সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়, কাজলদিঘী টুনির হাট দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, টুনির হাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং টুনির হাট বেসরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে প্রতি সোমবার এবং শুক্রবার হাট বসানো হয়। এজন্য সোমবার বিদ্যালয় ছুটি দেয়া হয় দুপুরেই।

জানা গেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় সচেতন সমাজ বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানোর বিরোধিতা করলেও স্থানীয় সরকারদলীয় প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় গত এক দশক থেকে মাঠ দখল করে হাট বসানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতির পাশাপাশি বিনোদন সংকটেও পড়েছে ৪ বিদ্যালয়ের প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার এবং ফারজানা আক্তার জানায়, ‘বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসার কারণে লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হয়। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ক্লাস হলেও সকালেই মাঠে হাট বসে যায়। ফলে হাটের কোলাহলের কারণে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ থাকে না। ৫ম শ্রেণির আরিফ হোসেন জানায়, তারা খেলাধুলা করতে পারে না।

অভিভাবক ছায়দার রহমান (৪০) জানান, কষ্ট করে সন্তানদের লেখা পড়া শেখাচ্ছি। সোমবার মাঠে হাট বসার কারণে আমার দুই ছেলে মেয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। ওই দিন ক্লাস হয় না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ইজারাদার হারুন অর রশিদ জানান যুবলীগের স্থানীয় নেতা জালাল উদ্দিন, আবু বকর সিদ্দিক এবং তিনিসহ তিনজন মিলে সরকারি কোষাগারে প্রায় আট লক্ষ টাকা দিয়ে এই হাট ইজারা নিয়েছেন। সোম ও শুক্রবার এই হাট সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায়। ফলে সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পাঠদান করার নিয়ম থাকলেও সেদিন দুপুরেই বিদ্যালয় ছুটি দেয়া হয়। এ জন্য বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিবছর অনুদান দেয়া হয়। অপর ইজারাদার স্থানীয় যুবলীগ নেতা বলেন, এ ব্যাপারে আমি কোন কথা বলতে পারব না।

এদিকে এই চার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বলছেন, মাঠে হাট বসার কারনে পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল করতে পারছে না। মাঠে হাট বসার কারণে শিক্ষার্থীরা দৈহিক ও মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কাজলদিঘী টুনির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানোর কারণে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এলাকার শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায় না। এ ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটি উদ্যোগ নিতে পারে’।

টুনির হাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হক বলেন, ‘যারা হাট পরিচালনা করে তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী। দলীয় প্রভাবেই তারা বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসায়। আমরা নিরুপায়।’

কাজলদিঘী টুনির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্বাস আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনারা সাংবাদিকরা হাট বন্ধ করতে পারলে করেন। এই হাটের ব্যাপারে সবাই জানে। হাট ইজারাদারের কাছ থেকে প্রতিবছর ৪০ হাজার টাকা নেয়া হয় বলেও তিনি স্বীকার করেন।

জেলা প্রার্থমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দীক মোহাম্মদ ইউনুস এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা মুনতাজেরী দিনা জানান, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

সিটিজিসান.কম/শিশির