পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের গুলিতে আরও একজনের মৃত্যু

নাঈম ইসলাম, রাঙামাটি প্রতিনিধি : পার্বত্য শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তির মাত্র একদিন আগে ঝড়েগেল আরও একটি প্রাণ। রোববার ভোরে রাঙামাটি সদরের আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের বড় আদম এলাকায় র্দুবৃত্তরা জেএসএস এর কালেক্টরকে গুলি করে হত্যা করে। রাঙামাটির কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি এই খবর নিশ্চিত করে।

ওসি বলেন, আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করেছি। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। নিহতের নাম বিক্রম চাকমা ওরফে সুমন চাকমা এবং তার বাড়ি রাঙামাটি শহরের রাঙ্গাপানি এলাকায় বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে ঘটনাস্থল থেকে রাইফেলের চার রাউন্ড গুলির খোসা পড়ে থাকা অবস্থায় পেয়েছে পুলিশ। নিহতের দুই হাতে, বুকের এক পাশে গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, মূলত: রাইফেল জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েই বিক্রমকে হত্যা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গুলির খোসাগুলো দেখে সেরকমটাই মনে করছেন তিনি।

স্থানীয় দোকানদাররা জানান, কয়েকজন মুখোশপড়া পাহাড়ি যুবক সশস্ত্র অবস্থায় বিক্রমকে নিয়ে এসে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সে সময় ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন, অন্তত ৫ থেকে ৬ রাউন্ড গুলির আওয়াজ তারা শুনেছেন।

স্থানীয়রা জানান, এইচএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা বিক্রম জেলার কাউখালী ও ঘাগড়া এলাকায় চাঁদা আদায়ের কাজ করতেন। কয়েক মাস আগে রাঙামাটির শীর্ষ চাঁদাবাজ জ্ঞান শংকর চাকমা নিহত হওয়ার পর তার স্থানে দায়িত্ব পান বিক্রম। পরবর্তীতে তিনি চীফ কালেক্টর হিসেবে কাজ করতেন। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মুখে নিজ এলাকা থেকে সটকে গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বিক্রম। তবে পালিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি।

রোববার ভোররাতে স্বগোত্রিয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতেই নিহত হয়েছে বিক্রম চাকমা। পাহাড়ী অস্ত্রধারীরা তাকে গুলি করে হত্যার পর বড় আদমের অদূরে একটি দোকানের পেছনে লাশ ফেলে রেখে যায়। ##

Leave a Reply