পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থলুটেই শেষ ‘বাঁশ মসল্লা সোলার’

ঢাকা : সোমবার, নভেম্বর ৪, ২০১৯, ০৯:০১ পিএম

নাঈম ইসলাম, রাঙামাটি প্রতিনিধি :: পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাঁশ, মসল্লা ও সোলার প্রকল্পের নামে চলছে হরিলুট। একইভাবে অনিয়মে অর্থলোপাট চলছে মিশ্র ফলজ প্রকল্পেও। অভিযোগ উঠেছে, উপকারভোগী নির্বাচন, প্রশিক্ষণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিমালার কিছুই মানছেন না বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ। ভূয়া বিলভাইচার আর মিথ্যা উপকারভোগী দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থ খরচ করে চলেছেন নিজেদের খেয়াল খুশি মতো। এসব প্রকল্প মাঠে গড়ানোর আগেই সরকারের অনেকগুলো টাকা। আবার কেউ আছেন ভোজন এবং বেদিশে ভ্রমন নিয়ে ব্যস্ত।

জানা গেছে, ২০১৬-১৯ অর্থ বছরে তিনবছর মেয়াদী প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ৪০ কোটি টাকা ও সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় ৭৬.০৬ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে জুন মাসে প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হলেও নতুন প্রকল্পের জন্য ২’শ ১৬ কোটি টাকা প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে নতুন প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যলয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবানের লামাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উসেশিং বলেন, পাহাড়ে আরো ৪৫ হাজার সোলার প্যানেল প্রদান করা হবে ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে দুর্গম এলাকায় প্রথম পর্যায়ে সোলার প্যানেল উপকারভোগীদের প্রশিক্ষনের নামে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক টাকার ভাতা উক্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু সোলার ব্যবহারকারীদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়নি। এছাড়া আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা উক্তোলন করায় ২০১৬-১৭ ও ২০১৮ অর্থবছরে অডিট আপত্তির খবর পাওয়া গেছে । প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন সদস্য প্রশাসন এম. মঞ্জুরুল আলম। তিনি অবসরে গেলে বর্তমানে সদস্য প্রশাসন আশিষ বড়–য়া প্রকল্প পরিচালক হিসাবে দায়িত্বে আছেন।

শেষ পর্যায়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন নামে-বেনামে স্থানীয় বেশ কিছু সংবাদকর্মীর কাছে সোলার প্যানেল বিতরণ করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে বাজারে বিক্রি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এদিকে বাঁশ প্রকল্পের ২৩ কোটি টাকা, গবাদি পশু ১৩ উপজেলায় বিতরণের জন্য প্রায় ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প টেন্ডার দেখিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। মসল্লা ও উচুভুমি বন্দোবস্তি প্রক্রিয়াসহ আরো কয়েকটি প্রকল্পের বিস্তারিত জানা যায়নি। অনুসন্ধানকালে সকলে লুকোচুরি খেলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে দেখা গেছে। মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকার ফলে এসব প্রকল্পের স্বচ্ছতা জবাবদিহিতাও নেই।

এই বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সোলার প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার মিল্টন চাকমা বলেন, বিভিন্ন দুর্গম এলাকার (বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি বালুখালী ও বন্দুুকভাঙ্গা) আত্বীয় স্বজন ও প্রতিবেশীর নামে বেশ কিছু সাংবাদিক সোলার নিয়েছে। তবে বাজারে বিক্রি করার বিষয়ে আমি জানি না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সোলার প্রকল্পের সমন্বয়ক মো. হাছান বলেন, প্রথম পর্যায়ে সোলার প্যানেল উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণের নামে ও আনুষঙ্গিক ব্যয় দেখিয়ে বিল ভাউচার করে প্রচুর অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সাবেক সদস্য প্রশাসন মঞ্জরুল আলম বলতে পারবেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালা না মেনে বেশকিছু অনলাইন পত্রিকা ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রকল্প গ্রহন করার অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া খাসভুমি ও ব্যক্তিগত জমিতে উন্নয়নের নামে প্রতিবছর একাধিক প্রকল্প নেয়ায় ব্যাপক আলোচনার শীর্ষ স্থান পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ দিকে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা) পদোন্নতি পেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান পদে বদলী হলেও তাকে যোগদান করতে দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ ওঠেছে।##

Leave a Reply