নির্যাতন-হুমকির অভিযোগে চট্টগ্রামে দু’পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম


চট্টগ্রাম | ০১ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ০২:৩০ পিএম |

চট্টগ্রামের পটিয়া আদালতের কর্মচারী নুরুল হাছান ও তার বৃদ্ধা ছকিনা বেগম (৭০)কে অন্যায়ভাবে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বোয়ালখালী থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ এক সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০১ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেনের আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ছকিনা বেগম।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইউসুফ।

অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী ছকিনা বেগম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বোয়ালখালী থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ এক কথিত সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে । আদালত মামলাটি আমালে নিয়ে আদালত দু’টি আদেশ দিয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে এফআইআর রেকর্ড করার জন্য দুদকের পরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আসামীরা হলেন- চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫), সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনির আহাম্মদ (৪২) ও পুলিশের সোর্স মো. রাসেল (৩২)।

মামলায় বলা হয়েছে- চলতি ২৭ অক্টোবর বেলা ১২টার দিকে বোয়ালখালীর ঘোষখীল আব্দুল মুনাফের বাড়িতে ছকিনা বেগমের ছেলে নুরুল আমিন কে খুঁজতে যান দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ এক সোর্স। তখন ছকিনা বেগমের বলেন, আমিন শহরে চাকুরি করে এবং ওখানেই ভাড়াবাসায় থাকেন। ওই সময় পুলিশ কর্মকর্তারা বাদীনিকে একটা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন তারা। কেন স্বাক্ষর দিবো এমন বাদীনির প্রতি উত্তরে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও তার মাথার চুল ধরে মুখে থাপ্পর মারতে থাকেন এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন।

ওইসময় এগিয়ে আসেন ছকিনা বেগমের আরেক ছেলে পটিয়া আদালতের নৈশপ্রহরী নুরুল হাছান। তখন মা-ছেলে দুইজনকেই মারতে থাকেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এসময় বৃদ্ধার পরনের কাপড় খোলে যায় ও শরীরে বিভিন্ন স্থানে প্রচন্ড জখম হয়।
পরে মামলা আছে বলে নুরুল হাছানকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুল হাছানকে ওইদিন রাত ৮টার দিকে থানা হাজতের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে মেঝেতে ফেলে শারীরিকভাবে আঘাত করে। মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য হাছানকে এক লাখ টাকা দিতে বলেন। অন্যথায় ক্রসফায়ারের হত্যার হুমকিও দেন পুলিশ। পরে বাধ্য হয়ে রাত দুইটার দিকে ৫০ টাকা ও সাদা কাগজে সাক্ষর দিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে আসেন নুরুল হাছান।

গেল বছর গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে চান্দগাঁও থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার ইনচার্জ (পরিদর্শক) সাইরুল ইসলাম যোগদান করেন। একই সাথে বদলি হয় এএসআই মনির আহাম্মদ। এর আগে ২০১৫ সালে চান্দগাঁও থানায় ওসি সাইরুলসহ এএসআই মনিনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকালে নানান অনিয়ম, আটক বাণিজ্য, চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসব খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর চান্দগাঁও থানার ওসি সাইরুল ইসলামসহ আট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মহানগর পুলিশ কমিশনারের অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীসহ সাত ব্যক্তি। ওসি বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন ফাঁদে ফেলে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়া, ফিটিং কেইসে ব্যবসায়ীদের হয়রানী, মাদক দিয়ে মামলায় জড়ানো, গ্রেপ্তার বাণিজ্য, থানায় আগমনকারী ওপর দুর্ব্যবহার, ধরে নিয়ে গুলি করাসহ বেশকিছু অভিযোগ। তৎকালীন পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডলের নির্দেশে এসব অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি চান্দগাঁও থানা ওসি সাইরুল ইসলাম ও এএসআই মনিরসহ অভিযুক্ত সাত পুলিশ কর্মকর্তাকে। পরে ৩ ডিসেম্বর চান্দগাঁও থানা থেকে সাইরুল ইসলাম কে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)তে বদলি করা হয়।

সিএস/সিএম/এসআইজে