টিএসসিতে ‘কোটা আন্দোলনের’ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, রক্তাক্ত ৫

অনলাইন | সিটিজিসান.কম

ঢাকা | ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার ০৯:৩৫ পিএম |

নিরাপদ বাংলাদেশের দাবিতে মানববন্ধন করতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পাঁচ নেতা। রোববার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন।

হামলার শিকার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা পূর্বনির্ধারিত ‘নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’ নামে কর্মসূচি পালনের জন্য দুপুর ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) অবস্থান করছিলেন। পরে ক্যাফেটেরিয়ায় সবাই খেতে বসেন। এসময় ছাত্রলীগের ৬০ থেকে ৭০ জন নেতা-কর্মী তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।

ছাত্রলীগের এ হামলায় রক্তাক্ত হন ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদে’র যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা বিন ইয়ামিন, জসিম উদ্দিন আকাশ, সোহরাব হোসেন, জালাল আহমেদ ও আহমেদ কবির। এছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা আর সাত-আটজনকে মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মারধরের সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা টিএসসির প্রধান গেটটি বন্ধ করে দেয়। এ সময় টিএসসির ভিতরে অবস্থান করা সবাইকে এলোপাতাড়ি মারধর করে হামলাকারীরা।

জানা যায়, এই হামলায় নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান ও শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের স্কুলছাত্র–বিষয়ক সম্পাদক শহীদুল শান।

হামলার বিষয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নূর বলেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিনা কারণে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় দশ-বারোজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এরমধ্যে গুরুতর আহত সোহরাব হোসেনসহ চারজনকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগেও তারা বিভিন্ন সময় আমাদের উপর হামলা করেছে, কিন্তু প্রশাসন কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। খোঁজখবর নিচ্ছি। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

সিএস/সিএম/এসআইজে