চট্টগ্রাম রেলওয়ের স্টাফ কোয়ার্টারে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ৩

সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০১৯ ১০.৩০ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: চট্টগ্রাম মহানগরের টাইগারপাসের রেলওয়ে স্টাফ কোয়ার্টারে সন্ত্রাসী হামলা রেলওয়ের দুই কর্মচারীসহ একই পরিবারের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে রেলওয়ের সিআরবি হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে একজনকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে প্রায় ২৫-৩০ জনের একটি শসস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ ওই কোয়ার্টারে ঢুকে রেলওয়ের কর্মচারী মোহাম্মদ নুরুল আলম ও তার বড়ভাইসহ তিনজনকে বেধম পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং বাসায় ব্যাপব ভাংচুর চালায়।

আহতরা হলেন, চট্টগ্রাম রেলওয়ের প্রধান ষড়ঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (সিসিএম) কার্যালয়ের অফিস সহকারী মোহাম্মদ নুর আলম, তার বড়ভাই সিআরবি’র অফিস সহায়ক মোহাম্মদ নুর নবী, খালাত ভাই মোহাম্মদ সোহেল। এদের মধ্যে নুর নবীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শীলব্রড় বড়–য়া জানান, রাত সাড়ে নয়টার দিকে রেলওয়ে হাসপাতাল থেকে নুর নবী নামে একজনকে আহতবস্থায় চমেকে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের উদৃতি দিয়ে এসআই শীলব্রত বড়–য়া বলেন, মাথায় ভাড়ি বস্তুর আঘাতের কারণে মাথা ফেঁটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।

সিসিএম কার্যালয়ের নুুর আলমের অভিযোগ, কত কয়েকদিন ধরে রেলওয়ের স্টাফ কোয়ার্টারের বেশকিছু বাসা দখলের নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ। ওই কোয়ার্টারে বসবাসকারী রেলওয়ের কর্মচারীরা বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয় সেই সন্ত্রাসীরা। বাসা ছেড়ে না যাওয়ার কারণে গত দুইদিন আগে সেখানে রাতের বেলায় পিস্তুল, বন্দুক, রামদা, কিরিচ ও হকিস্টিক নিয়ে কোয়ার্টারে বসবাসকারী রেলওয়ের কর্মচারীদের ওপর হামলা করে। সেরাতে ত্রিপল নাইনে (৯৯৯) কল করার পর নগরের খুলশি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমানিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ যেতেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এর দুইদিন পর সোমবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা দিকে ফের হামলা করে। তবে এবার ত্রিপল নাইনে কল দিয়েও কোনো সহযোগিতা মিলেনি। আর এসআই আল আমিন ডিউটিতে না থাকায় কলও রিসিভ করেননি বলে জানান নুর আলম।

নুর আলম বলেন, ঘটনাটি রেলওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ১০ একশ গজের মধ্যে রেলওয়ে স্টাফ কোয়ার্টারে। সেখানে সন্ত্রাসীরা সরকারি বাসা নিজেদের দখলে নেয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকাটিকে মাদকের আখড়ায় পরিনথ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা দেখেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

এই প্রসঙ্গে জানতে সিএমপির খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একাধিকবার কল দিয়েও কোনো বক্তব্য মিলেনি।

রেলওয়ের দুই কর্মচারীসহ তিনজনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে (পূর্ব) জেলারেল ম্যানেজার নাসিরুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টা কি? আমার জানা নেই। আমি জেনেই আপনাকে বলতো পারবো। তিনি বলেন, সেখানে বহিরাগত যাওয়ার কোনো অনুমতি নেই। তার পরও অনেক কর্মচারী গোপনে সাবলেট ভাড়া দেয়। সেধরনের কিছু কিনা আমি জেনে নেই। তবে এই বিষয়ে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।##