গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম


চট্টগ্রাম | ০৬ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার, ০৭:২৫ পিএম |

কক্সবাজারের মহেশখালী সমুদ্রের তলদেশের পাইপলাইনের মধ্যবর্তী স্থানে হাইড্রোলিক ভাল্বটি নষ্ট হওয়ায় চট্টগ্রামের বেশ কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বিঘিœত হচ্ছে।

গত শনিবার (০৩ নভেম্বর) থেকে গ্যাসের অতিরিক্ত চাপে অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে বলে জানান- কেজিডিসিএল’র ব্যবস্থাপক (কাস্টমার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) প্রকৌশলী অনুপম দত্ত।

প্রকৌশলী অনুপম দত্ত বলেন, গত শনিবার রাতে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আগামী ১৫ নভেম্বরের আগে এলএনজির সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এই কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে আপাতত গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, ১৮ আগস্ট থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। কিন্তু পানির তলদেশে ৪০ মিটার নিচে থাকা হাইড্রোলিক ভাল্বটি গত শনিবার গ্যাসের অতিরিক্ত চাপে অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমার কারণে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে।

এই সৃষ্ট সংকটের কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) কর্তৃপক্ষ। এতে বন্ধ হয়ে গেছে চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (সিইউএফএল)। একইসঙ্গে দ্ইু শতাধিক শিল্প কারখানার উৎপাদন কমে গেছে। সিএনজি স্টেশনে কমে গেছে গ্যাসের চাপ। চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম বেশ কিছু এলাকায় বাসা ও বাড়িতে এই সমস্যার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী।

জানা গেছে, এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পায় কেজিডিসিএল। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। গ্রাহকদের কাছে জাতীয় গ্রিডে থেকে পাওয়া গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গতকাল (৫ নভেম্বর) জাতীয় গ্রিডে থেকে ২১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে।

এদিকে বর্তমানে চাহিদার আলোকে দৈনিক গ্যাসের প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহের মাধ্যমে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট দেয়া হতো। পাইপলাইনে ত্রুটির ফলে এখন গ্যাস সরবরাহ ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খায়েজ আহমদ মজুমদার বলেন- কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি সারাতে কাজ করছে এলএনজি সরবরাহে দায়িত্বপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি অ্যাক্সিলারেট অ্যানার্জি। চেষ্টা চলছে গ্যাসের সরবরাহ করতে। আগামী ১৫ নভেম্বরের আগে এলএনজির সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল চৌধুরী বলেন- গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। এতে করে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

সিএস/সিএম/এসআইজে