কুয়েতের ভিসা নিয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের ভোগান্তি!

expat-bd

আবু ছাদেক রিপন, কুয়েত :: র্দীঘ প্রায় ১২ বছর ধরে বাংলাদেশিদের জন্য কুয়েতের ভিসা বন্ধ থাকার পর চলতি বছরে প্রথম দিকে ক্লিনিং ভিসা চুলা করা হয়েছে পরে জুন মাসের শেষের দিকে হতে চালু করা হয় কুয়েতের বাসা এবং বাগানের ভিসা।

বাসা এবং বাগানের ভিসা চালু হয়ার ১ মাসের মাথায় ভিসা জালিয়তি ও এক ভিসায় একাধিক অভিবাসী শ্রমিক প্রবেশের ফলে ভিসা বাংলাদেশি শ্রমিকের ভিসা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

কুয়েতের শেখের অনুমোতি ছাড়া ভিসা বাসা এবং বাগানের ভিসা বের করতে পাচ্ছেন না কুয়েতের সাধারণ নাগরিকরা। অনুমোতি পাওয়ার পর নানা জটিলতা মধ্য দিয়ে ও ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ পড়ে একটি ভিসার মূল্য। মধ্য প্রাচ্যের দেশ কুয়েতের ভিসা চালুর হওয়া খবর শুনে দেশের অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে খুশি হয় অনেক পরিবার যাদের মামা খালু আগের কুয়েতে অবস্থান করেছে। অনেকেই আবার মামা খালু না থাকলেও জায়গা জমি বিক্রি করে, ধার করে বা ঋণ নিয়ে ৬/৭ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্য জনের মারফতে ভিসা কিনলেও শান্তিতে যেতে পারছে না অবিবাসী শ্রমিকরা কারণ ভিসা হাতে পাওয়ার পর শুরু হয় যত ভোগান্তি।

ভিসার ৩ মাস মেয়াদের মধ্যে বিভিন্ন দালালের চক্করে পড়ে অনেক সময় ঋণের টাকায় কেনা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ভিসা নিয়ে ট্রাভল্স এজেন্সির নিকট যাওয়ার পর কুয়েত এবং সৌদি আরব ভিসা প্রসেসিং জটিলতা বেশি সময় লাগবে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০/২৫ দিনের সকল কাজ সম্পন্ন করে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজ নেয় কিন্তু দেওয়া হয় মেয়াদ শেষ হওয়ার ১/২ দিন আগে।

প্রথমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেপার জন্য নেওয়া হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। মেডিকেল ফি ৫ হাজার ৩ শ টাকা নেওয়া হয়। তারপর মেজিকেল নিয়ে যত জামেলা গামকা অফিসে যাওয়ার পর মেডিকেল সেন্টার ঠিক করে দেওয়া হয়ে কার পরীক্ষা কোন মেডিকেলে সেন্টারে করতে হবে। সেখানে যাওয়ার পর বলে আপনার এই ছবি হবে না কারণ জানতে চাইলে কোন উত্তর নেই। সেন্টারের ভিতরে ছবি তোলার ব্যবস্থা রয়েছে অগ্রিম সিলিফ নিয়ে লাইনে দাড়িয়ে ২ কপি ছবি ১০০ টাকার নেওয়া হচ্ছে। তেমন একটি সেন্টার হচ্ছে চট্টগ্রামের পর্বতক মোড়ে চেক আপ।

মেডিকেলে দেওয়ার পর পর তাদের একটি জিপি নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয় ফিট না আন ফিট। তবে ফিট ফোন করে বলা হয় আপনি ঐ তারিখে আসুন এক এক জনকে এক একটা ট্রেস্ট নতুন করে ধরিয়ে দেওয়া হয় অথবা তাদের প্রতিষ্ঠানে ডাক্তারের কাছে পাঠানো হয় ১ সপ্তাহ বা ১৫ দিনে ওধুষ দিয়ে আবার ট্রেস্ট নেওয়া হয়। এইভাবে গুনো হয় শতকার ৯০ জন বিদেশে যাত্রী কে। এছাড়াও চট্টগ্রামে রয়েছে আরো দুইটি সেন্টার হিউম্যান, এপেক্স আবার দালালদের যোগসাযোসে আন ফিট কে ফিট করে দেয় টাকার বিনিময়ে এমনো অভিযোগ রয়েছে মেডিকেল সেন্টর গুলোর বিরুদ্ধে। তাদের এই সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে আন ফিট করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এভাবে করতে করতে চলে যায় এক মাস এর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে করা হয় তিন দিনের প্রশিক্ষণ এবং ফিংগার প্রিট ম্যান পাওয়ারের জন্য। সেখান থেকে দেওয়া হয়ে একটি সার্টিফিকেট। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, ফিট মেডিকেল সার্টিফিকেট, প্রশিক্ষণ্ সার্টিফিকেট এই তিন সহ মূল ভিসা ও পাসর্পোট পাঠানো হয় ঢাকা গুলশান কুয়েত দূতাবাসে পাঠানো হলে সেখান থেকে ডেলিভারি দেওয়া হয় ভিসার মেয়ার শেষ হওয়ার ২/৩ দিন পূর্বে।

এ ব্যাপরে দূতাবাসের এক কর্মকতা রশিদের সাথে ভিসা দেরিতে ডেলিভারি দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি, অস্বীকার করেন বলেন, আমাদের এখান থেকে কখনো পাসর্পোট ও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া ২/৩ আগে ডেলিভারি দেওয়া হয়নি।

প্রবাসী অভিবাসীরা মফস্বল এলাকার ট্রাভল্স এ পাসর্পোট জমা দেন সে কারণে পেতেও সময় লাগে। তবে যান্ত্রীক ত্রুটির কারণে ডেলিভারি দিতে অনেক সময় কিছুটা লাগছে। এই সকল জটিলতার কারনে অনেক সময় বিদেশ থেকে মালিক তাড়াতাড়ি যেতে বললেও যেতে না পারার কারণে ভিসা কেন্সেল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকে। দেরিতে ডেলিভারি পাওয়ার বিষয়ে ঢাকা ফকিরাপুল ট্রাভল্সেজোনাকি ট্রাভল্স ও সিটি ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির দুই কর্মকর্তা রিপন ও শামীম সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলে দূতাবাস থেকে ডেলিভারি দিতে দেরি করলে আমরা কিভাবে দিব। এখানে আমাদের কারো কোন হাত নেয় তারা যখন দেয় আমরা ম্যানপাওয়ার কার্ড নিয়ে পরের দিন দিয়ে দিই গ্রাহকে।

তবে বিদেশ থেকে আরবী মালিক ফোন দিলে তাহলে তাড়াতাড়ি দিয়ে দেয় । দেশ থেকে কেউ ফোন দিলে কাজ হয় না সে এমপি হোক আর মন্ত্রী হোক। দূতাবাস থেখে ডেলিভারি পাওয়ার পর আগের খরচ বাদ দিয়ে নতুন করে লোকাল বিমান (১/২ দেশে ট্রানজিট করে) ঐ সকল বিমানের টিকেট ১৭ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে সিট বুক দিয়ে ও ম্যানপাওয়া প্রসেসিং প্যাকেজ হিসেবে দিখিয়ে নেয়া হচ্ছে ৪৫ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা।

কুয়েতে একাধিক প্রবাসী বাঙ্গালীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে অনেক শ্রমিক চাহিদা রয়েছে প্রতিদিন বিভিন্ন প্লাইটে শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্তান থেকে হাজার হাজার হাজার শ্রমিক প্রবেশ করেছে কুয়েত।

কিন্তু এখানে কিছু অসাধু দালাল চত্রু ভিসা জালিয়তি এক ভিসা একাধিক লোকের নিকট বিক্রি ও অবৈধ ভাবে প্রবেশসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বাংলাদেশি নতুন শ্রমিক ভিসা অনেক কমিয়ে দিয়েছে তবে ক্ষমতা সম্পর্ণ কুয়েতের সরকারি কর্মকর্তা হলে ভিসা বের করতে পারছে। জামেলা বেশি, ভিসার দামও বেশি যার কারণে বাংলাদেশি শ্রমিক আসা কমে গেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তা না হলে এখানে প্রচুর বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হত। দেশে বেকার সমস্যা কিছুটা হলেও লাগব হত। যার ফলে কুয়েত এয়ার র্পোটে বাড়ানো হয়েছে কড়া নজরদারি অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে। এয়ারপোর্ট থেকে মালিক বা মালিকের লোক গিয়ে নিয়ে আসতে হয় তার লোককে।

সিটিজিসান.কম/শিশির