কাপ্তাই লেকে অবৈধ বসতির প্রতিযোগীতা, থেমে নেই দুষণ!

সোমবার, অক্টোবর ৭, ২০১৯, ০৩:০১ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, পার্বত্য রাঙামাটির কাপ্তাই লেক দখল করে একের পর এক গড়ে উঠছে অবৈধ বসতি। থেমে নেই দুষণও! জেলা প্রশাসনের গা ঘেঁষেই চলছে প্রতিযোগিতা মূলক দখল আর দুষণ। তবে এর দায় নিতে চাচ্ছেন না লেকের সুফলভোগকারি বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন করপোরেশন বিএফডিসি। বিএফডিসির কর্তাদের ভাষ্য, অবৈধ বসতি আর দুষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে। কারণ জেলা প্রশাসন থেকে এই লেক প্রতিবছর লিজ নিয়ে বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন করপোরেশন মাছ চাষে ব্যবহার করছে মাত্র। বিনিময়ে সরকারকে দেয়া হচ্ছে বিশাল অংকের রাজস্ব। কিন্তু জবাবে ডিসি জানালেন আদালত থেকে উচ্ছেদের আদেশ না নেয়া পর্যন্ত অবৈধ বসতি উচ্ছেদ নয়! ঘতে পারে সংঘর্ষ।

অভিযোগ উঠেছে, রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে মাত্র দেড় কিলোমটিার দূরে রিজার্ভ বাজার। আর জেলার পুলিশ সুপারের বাস ভবন থেকে মাত্র দেড়শ গজ। ওই বাজার থেকে কাপ্তাই লেক আর দেখা যায় না। কারণ লেকের কূল থেকে মাঝ পর্যন্ত দখলকরে অবৈধ বসতি নির্মাণ করেছেন দখলদাররা। এই দখল প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।

ওই অবৈধ বসতি নির্মাণকারীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, অনেক দখলদারের মধ্যে রাঙামাটি পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর করিম আকবর একজন। এই কাউন্সিরর পাথরঘাটা এলাকায় লেকের মধ্যে বাড়ি বাণিয়ে ভাড়ায় দিয়েছেন। বাড়ির ভাড়াটিয়াদের জন্য টয়লেট বাণিয়েছেন সেই লেকের মধ্যেই। দখল আর দূষল কোনটাই বাদ রাখলেন না এই কাউন্সিলর। তার পাশ^বর্তি এলাকায়ও রয়েছে অন্তত আরও অর্ধশত কাঁচা ও সেমি পাকা অবৈধ বসতি। সবগুলোই কাপ্তাই লেক দখল করে নির্মাণ করা। রিজার্ভ বাজার থেকে দোয়েল চত্বর। সেখানেও লেকের মধ্যে অন্তত ত্রিশ থেকে ৪০টি অবৈধ বসতি। একইভাবে তবলছড়ি বাজার পর্যন্ত দুই শতাধিক অবৈধ বসতি নির্মাণ করা হয়েছে কাপ্তাই লেকের মধ্যে। এসব বসতি নির্মাণকারীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, বসতি নির্মাণ থেকে শুরু করে এই কারো বছর, কারো অর্ধযুগ আর কারো কয়েকযুগ পেরিগেছে। জেলা-উপজেলা প্রশাসন বা সরকারি অন্যকোনো সংস্থার পক্ষ থেকে কেউ বাধা দেননি। এমনকি নিষেধও করেননি।

দখল আর দুষণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর করিম আকবর বলেন, লেকের মধ্যে বা পাশে বসতি না গড়লে মানুষ থাকবে কোথায়? মানুষেরতো থাকার আর কোনো জায়গা নেই। এখান থেকে যদি বাঙালি উচ্ছেদ করে দেয়া হয়, তাহলে এই এলাকায় পাহাড়িরা এসে রাজত্ব করবে।

এই বসতি স্থাপানের পূর্বে বা পরে জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি বা ইজারা নেয়া হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে করিম আকবর বলেন, লেকে ঘর নির্মান করতে হলে জেলা প্রশাসকেরে অনুমতি নিতে হয় আমার জানা নেই।

তিনি বলেন, আমার (করিম আকবরের) বাবা যখন এখানে (রিজার্ভ বাজারস্থ ২ নং ওয়ার্ড’র ২নং পাথরঘাটা এলাকায়) ঘর নির্মান করেন তখন এখানে আর কোনো বাড়ি ঘর ছিল না। এখনতো শতশত বসতি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএফডিসি’র রাঙামাটির ব্যবস্থাপক আর.এম তৌহিদুল ইসলাম বলেন, যেভাবে কাপ্তাই লেক দখল ও দূষণ হচ্ছে, অদূও ভবিষ্যতে এই লেক মাছ চাষের অনুপযোগ্য হয়ে পরবে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের থেকে মাছ চাষের জন্য কাপ্তাই লেক আমরা ইজারা নিয়ে থাকি। এক্ষেত্রে লেকে দখল কিংবা দূষণ রোধে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারি না।

তিনি আরও জানান, এবিষয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা হয়েছে। জেলা প্রশাসক বলেছেন, কোর্টের রায় ছাড়া আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালালে এখানে সাংঘর্ষিক কিছু ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন- প্রতিযোগীতামূলক দখল চলছে এটা সঠিক না। আমি এখানে আসার পর থেকে কাউকে একটা খুঁটিও গাড়তে দেয়নি। যখনই শুনেছি কোথায় অবৈধ বসতি স্থাপন করা হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করেছি। পর্যায়ক্রমে সব উচ্ছেদ করা হবে।

উচ্ছেদের জন্য আদালতের কোনো নির্দেশনা চেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন আছেন এধরনের কোনো কথা আমি বলিনি। তবে কাপ্তাই লেক দুখল ও দুষণ রোধের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।##

জেএইচ/এনআই/সিএস