কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত ৪

কক্সবাজার : কক্সবাজারে পৃথক দু’টি পাহাড়ধসে শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাত দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে মাটি সরিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কক্সবাজার ফায়ার স্টেশনের উপ-সহকারি পরিচালক আবদুল মালেক ও ফায়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, প্রথম পাহাড়টি ধসের ঘটনা ঘটে রামু উপজেলার চেইন্দা এলাকার মা ও শিশু হাসপাতালের পেছনের পাহাড়ের পাদদেশে। রাত দেড়টার দিকে ভারী বর্ষণের সময় হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে জিয়াউর রহমানের ঘরে। এসময় তারা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল।

পাহাড় ধসের কিছুক্ষণের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় জিয়াউর রহমান (৩৫) ও তার স্ত্রী আনার কলি (২৯) উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তাদের দুই শিশু জিহান(৭) ও সায়মা আক্তার(৫)। পরে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার অভিযান চলাকালে অপর পাহাড় ধসের খবর আসে শহরের লাইট হাউস এলাকা থেকে। পরে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকারী দলের অপর একটি অংশ দ্রুত ছুটে যান লাইট হাউসের মসজিদ গলি এলাকায়। সেখানে পাহাড়ের মাটিতে চাপাপড়া একটি ভাড়া ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় মোহাম্মদ শাহেদ (২০) নামের এক যুবকের লাশ। মুমূর্ষু অবস্থায় সাদ্দাম হোসেন (২৮), দেলোয়ার হোসন(২৫) ও আরাফাত হোসেনকে(৩০) উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সাদ্দাম হোসেন মারা যায়।

এদিকে কক্সবাজারে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। চকরিয়া, কক্সবাজার সদর,রামু ও মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবারো বন্যা দেখা দিয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সোমবার কক্সবাজার বিমান বন্দরে অবতরণ না করেই ঢাকায় ফিরে গেছে রিজেন্ট এয়ার লাইন্সের একটি বিমান। গতকাল সোমবার দুপুর থেকে কক্সবাজারে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় ১৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে আরো পাহাড় ধসের আশংকা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার পৌরসভা শহরের বিভিন্নস্থানে মাইকিং করে পাহাড়ের চুড়া ও পাদদেশে ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে অনুরোধ জানালেও কেউ আশ্রয় নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।