এমএ লতিফকে না, দলীয় ব্যক্তি মনোনয়ন দেয়ার দাবি

অনলাইন | সিটিজিসান.কম

ছবি : সংগৃহিত

চট্টগ্রাম | ১০ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার, ০৪:২০ পিএম |

বন্দর নগরীর চট্টগ্রাম-১১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এখনো চুড়ান্ত করেননি দলটি। এই আসনের বর্তমান সাংসদ এম এ লতিফ দলীয় কোন পদবিতে না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটিতে গত দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় কাউকে মনোনয়ন দেবেন এমন দাবি তুলেন চট্টগ্রাম মহানগরের শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

২০০৮ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে দেওয়া মনোনয়ন পাল্টে এম এ লতিফকে মনোনয়ন দেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও লতিফকেই একইভাবে প্রার্থী করেন দলটি।

মহানগরের বেশকয়েকজন শীর্ষ নেতারা জানান, চট্টগ্রাম-১১ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডকে বরাবরের মতো উক্ত আসনে দলীয় কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। পর পর দুই বারের নির্বাচিত সাংসদ এম এ লতিফ একটি ভিন্ন রাজনীতিক দল এসেছেন। তিনি দুই বার সাংসদ হওয়ার পরও দলীয় কর্মকান্ডে তিনি অনুপস্থিত থাকতেন। তার সাথে কোন দলীয় নেতাকর্মীর সাথে যোগাযোগ নেই। এক সময় মেয়র আ জ ম নাছির ওনাকে সাপোর্ট করলেও বর্তমানে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে না আসার কারণে ওনার সঙ্গেও দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে লতিফের। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসেই নেতাকর্মীদের জোরালো আওয়াজ উঠেছে, লতিফ হটাও।

মহানগর আ’লীগ সূত্রে জানায়, বন্দর-পতেঙ্গা আসন থেকে লতিফের বিপরীতে আওয়ামী লীগ দলীয় অন্য কাউকে খোঁজছেন। মনোনয়ন নিয়ে চসিক মেয়রের মধ্যস্থতায় একমত হয়েছেন সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

মেয়রের কাছে দাবি তুলবে, ছাত্রলীগ কিম্বা যুবলীগ অথবা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের মনোনয়ন দিতে হবে। লতিফ বাদে অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এমন প্রক্রিয়ায় এম এ লতিফের ‘একঘরে’ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে সিদ্ধান্ত মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের।

গত মঙ্গলবার (০৬ নভেম্বর) মধ্যরাতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবনে মেয়র হজ কাফেলার কার্যালয়ে বন্দর আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই প্রার্থীকে নিয়ে বৈঠক করেন। এরা হলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু। সেই বৈঠকে দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ‘এক’ করে দেন মেয়র। এই দু’নেতা ভিন্ন সুরে মনোনয়ন বোর্ডের কাছে বক্তব্য রাখার বিষয়ে একমত হন।

এবারও বেশ কয়েকজন দলীয় তৃণমূল নেতারা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। তারা হলেন, সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম বাহাদুর, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মো. ইলিয়াস, ব্যবসায়ী আজাদ খাঁন। তবে আলোচনায় প্রথম অবস্থানে আছেন খোরশেদ আলম সুজন। দ্বিতীয় অবস্থানে আলতাফ হোসেন বাচ্চুর। এমনটি জানিয়েছেন মহানগরের শীর্ষ নেতারা।

এবিষয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রামের ১১ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনটি। সবার একটি দাবি একটাই তৃণমূল থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে নেতৃত্বের পর্যায়ে আসা একজন নেতাকে মনোনয়ন দেওয়াটা প্রত্যাশা। এটা তো আমরা চাইতেই পারি, যিনি দলের দুঃসময়ে রাজনীতি করেছেন। দলের জন্য আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। এটা তাঁরই পাওয়ার অধিকার। দুঃসময় পার করা ত্যাগী নেতাদের পরিবর্তে যদি কেউ উড়ে এসে জুড়ে বসে, তাহলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।

জানতে চাইলে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, তৃণমূলের পছন্দের ভিত্তিতে একজন মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। যিনি মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, এমন কাউকে প্রার্থী যেন করা হয়। সেই বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আওয়ামী লীগের আদর্শের বিপরীতে থাকেন, জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে অতীতে কিংবা বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এমন কাউকে প্রার্থী না করার বিষয়ে আমাদের দাবি থাকবে।

জানা গেছে, এম এ লতিফ ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য হয়ে বিভিন্ন কর্মকান্ডে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করে ফেস্টুন ছাপিয়ে। সেসময় বর্ষীয়ান রাজনীতিক প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দূরত্বের কারণে পুরো মহানগরের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী লতিফের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন। জোরালো আওয়াজ উঠেছিল লতিফ হঠাও, দলীয় সকল কর্মকান্ড থেকে বয়কট করা হয়েছিল। এরপর থেকে মহানগেরর দলীয় কোন কর্মসূচিতে লতিফের অংশগ্রহণ ছিলেন না।

সেসময় এম এ লতিফের পাশে ছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। চলতি বছর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মেয়রের সঙ্গেও দুরত্ব বাড়ে লতিফের, এমন আলোচনা ছিল সরব গণমাধ্যমেও। সর্বশেষ দীর্ঘ ১০ বছরের মধ্যে দুরত্বের কারণে গত মার্চে লতিফ প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় গিয়েও আলোচনার জন্ম দেন। মহিউদ্দিন জীবিত থাকতে লতিফ ঢুকতে পারেননি তার বাসায়। ‘জামায়াত সংশ্লিষ্টতার’ অভিযোগে মহিউদ্দিন লতিফকে কাছে ঘেঁষতে দিতেন না। আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী এতদিন পাশে ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন আর লতিফের পাশে দেখা যায় না।

এম এ লতিফ এই প্রসঙ্গে বলেন, মহানগরের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা আমাকে পছন্দ করছেন না। আমি জনগণের সঙ্গে আছি ও থাকবো। কে পছন্দ করলো, না করলো সেটা ভাবছি না। বিগত ১০ বছর সভা-সমাবেশ করার চেয়ে মানুষের কাছে যাওয়াকে আমি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলাম এবং সেটাই করেছি। কিছু নেতা আমাকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন। যারা আমার বিরোধিতা করেন, তারা মিছিল-মিটিং করেন কিন্তু জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। -যমুনা.নিউজের।

সিএস/সিএম/এসআইজে

Leave a Reply