উন্নয়নের দাপট/ সিডিএর প্রশ্রয়ে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন চট্টগ্রামে, শতবর্ষীরও রেহাই নেই

অনলাইন | সিটিজিসান.কম

চট্টগ্রাম | ১৭ জুন ২০১৯, সোমবার ০৫.৪৫ পিএম |

চট্টগ্রাম: উন্নয়নের নামে চট্টগ্রামের ইপিজেড থেকে সল্টগোলা এলাকার ভিআইপি রোডে বিনা টেন্ডারে পাঁচ শতাধিক গাছ কেটে ফেলছে এক ঠিকাদার। এর মধ্যে অনেকগুলো গাছই শতবর্ষী। এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃক্ষনিধনে নিয়োজিত রয়েছেন জালাল নামের এক ঠিকাদার। তিনি নিজেকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তালিকাভুক্ত এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সের পক্ষে কর্মরত বলে দাবি করেছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থেকে সল্টগোলা এলাকার ভিআইপি রোডে ১৫-২০ ফুট পর্যন্ত ফুটপাতে অবস্থিত ছোট-বড় সব ধরনের গাছ নিধন চলছে। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে বট, কড়ই, বাতামগাছসহ বেশ কয়েক ধরনের ফুলগাছ। করপোরেশনের গাছ ছাড়াও প্রায় শতবর্ষী বিভিন্ন গাছ সংরক্ষণ করছিল স্থানীয় লোকজন। জানা যায়, কাটা গাছগুলো আবার অবৈধভাবে বিক্রিও করে দিচ্ছে ওই ঠিকাদার। প্রতিটি গাছ পাঁচ হাজার টাকা ধরা হলেও প্রায় পাঁচ শতাধিক গাছের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ২৫ লাখ টাকা।

ঠিকাদার জালাল গাছগুলো কাটার জন্য সিডিএর পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও এ প্রতিবেদককে অনুমতি বা টেন্ডারের কোনো কাগজপত্র বা প্রতিলিপি দেখাতে পারেননি।

গত বছর পতেঙ্গা টানেল নির্মাণ এলাকায় চরপাড়া থেকে সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত অনুমতির অতিরিক্ত প্রায় দেড় হাজারের বেশি ঝাউগাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জালাল নামের ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, উন্নয়নের নামে বৃক্ষনিধন করে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে নগরবাসীকে। নির্বিচারে গাছ নিধনের ফলে অদূর ভবিষ্যতে অক্সিজেন দেওয়ার মতো একটি গাছও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ফ্লাইওভার করার জন্য নির্দিষ্ট গাছগুলোই শুধু কাটার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বনবিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেঞ্জ (উপকূল) কর্মকর্তা রেজাউল আলম বলেন, ‘সরকারি কোনো সংস্থা সড়কের পাশে কোনো গাছ কাটার জন্য আমাদেরকে একটি চিঠি দেয়। চিঠির আলোকে গাছের ধরন, বাজারমূল্য ও স্থান নির্ধারণের বিষয়টি অবগত করে একটি খসড়া দিয়ে ওই চিঠির জবাব দেওয়া হয়। আমাদের চিঠির আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ কাটার অনুমতি দিতে পারে। অন্যথায় এটি অবৈধভাবে গাছ নিধন বলে গণ্য হবে।’

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘গাছ কাটা বিষয়ে করপোরেশনের কাছ থেকে আমরা অনুমতি নিয়েছি।’
এ সময় নির্বিচারে গাছ কাটার কথা অস্বীকার করেন তিনি। যদিও তিনি গাছকাটা বিষয়ক অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি।

গাছ কাটার বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করলেন স্থানীয় কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের নামে নির্বিচারের গাছ নিধন পরিবেশের জন্য হুমকি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘লালখানবাজার থেকে সিমেন্ট ক্রসিং এলাকা পর্যন্ত গাছ কাটার কোনো অনুমতি নেয়নি সিডিএ। নির্বিচারে গাছ কাটা পরিবেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। এ ব্যাপারে সিডিএকে চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে বন্দরনগরীতে প্রথম লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ১৬ কিলোমিটার। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২৫০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। নির্মাণ কাজের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ও রেঙ্কিন জেবি। চার বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে।-চট্টগ্রাম প্রতিদিন

সিএস/সিএম/এসআইজে