ইসি’র কাজ না গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের ধরণ নির্ধারণ করা: বিওজেএ

অনলাইন | সিটিজিসান.কম

ঢাকা | ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার ১১:৫০ পিএম |

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধসহ নানা কড়াকড়ি আরোপের ঘটনায় গভীর নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন -বিওজেএ।

রবিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিক সংগঠনটির সভাপতি জাহিদ ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম সরকার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ইসির এই রকম নির্দেশিনা স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের গলা টিপে ধরার সামিল।

নির্বাচন কমিশনের কোন বিধিনিষেধ সাংবাদিক সমাজ মানবে না। সাংবাদিকরা দেশের প্রচলিত আইন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরন করে অতীতের মত স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবে। অবিলম্বে নীতিমালার নামে জারি করা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানান বিওজেএ নেতৃবৃন্দ।

একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা সব সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। অথচ বর্তমান নির্বাচন কমিশন বার বার নানা বিধিনিষেধের বেড়াজালে সাংবাদিকদের আটকানোর অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের সময়ও বিতর্কিত আদেশ জারি করে সমালোচিত হয়েছে।

সাংবাদিকদের কাজের গন্ডি নির্ধারন করে দেওয়ায় ইসি কে প্রশ্ন রেখে বিওজেএ নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকরা কারো পক্ষ বা প্রতিপক্ষ নয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেমন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করে, তেমনি সাংবাদিকরাও তাদের পেশাগত দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। মূলধারার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করলে গুজব ও মিথ্যা প্রোপাগান্ড ডালপালা মেলে, এটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনকে অনুধাবন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নীতিমালা মানতে সাংবাদিক সমাজ বাধ্য নয়।

নির্বাচনের দিন ও আগে-পরে মিলিয়ে ৪ দিন সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের ঘটনায় সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে প্রধান বাহন হচ্ছে মোটরসাইকেল। কারণ দ্রুততম সময়ে স্পটে পৌঁছতে এবং অলিগলিতে থাকা ভোট কেন্দ্রে যেতে মোটরসাইকেলের কোন বিকল্প নেই। মোটরবাইকের ওপর নিষেধাজ্ঞা মানে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বপালনে অনাকাঙ্খিত বাধা। সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বা স্বাধীনভাবে দায়িত্বপালন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে এমন কোন নজীর নেই।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে সাংবাদিকদের আস্থায় নিয়ে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ সহ একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নীতিমালায় ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে ছবি তোলা, ভিডিও করা এবং তথ্য সংগ্রহ করতে পারার কথা বলা আছে। তবে একসঙ্গে একাধিক সাংবাদিক একই ভোটকেন্দ্রের একই ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি ভোটকক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরাসির প্রচার করা যাবে না।

এসব অমান্য করলে বা ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন, বিধি ও কোড অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে নীতিমালায়।

সিএস/সিএম/এসআইজে