অনুপ্রবেশের চেষ্টায় আটকের পর ৭৩ রোহিঙ্গাকে পুশব্যাক

টেকনাফ :
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় শুক্রবার রাত থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত কোস্টগার্ড ও বিজিবির সদস্যরা ৭৩ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে (পুশব্যাক) দিয়েছে।

কোস্টগার্ডের শাহপরীর দ্বীপ স্টেশনের কন্টিজেন্ট কমান্ডার সোলেমান কবির জানান, মিয়ানমারের মংডু এলাকা থেকে নৌকায় করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ২৬ শিশু, ২১নারী ও নয় জন পুরুষ ছিল। পরে তাদের একই পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারের ফেরত যেতে বাধ্য করা হয়।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাত দিকে নাফ নদী অতিক্রম করে টেকনাফ উপজেলার কয়েকটি এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ করা চারটি শিশু, আট জন নারী ও পাঁচ জন পুরুষসহ ১৭ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে নিজ দেশে ফিরতে বাধ্য করা হয়।

এর আগে শুক্রবার সকালেও ১৪৬ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে দেয় বিজিবি। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতার পর বাংলাদেশ অভিমুখী রোহিঙ্গাদের এই স্রোত তৈরি হয়। আর বিজিবি সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে ২৪টি পুলিশ পোস্টে হামলা হয়েছে। এসব সহিংসতায় ৮৯ জনের মতো মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে স্বাধীন রোহিঙ্গা রাষ্ট্রের চেষ্টায় থাকা সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সেলভেশন আর্মি এআরএসএ।

রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতার পর বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের জন্য ভিড় করছে রোহিঙ্গারা। কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ সীমান্তে অপেক্ষা করে আছে।

গত বছর অক্টোবরে একই ধরনের পরিস্থিতিতে কয়েক মাস ধরেই বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গাদের স্রোত তৈরি হয়। তখনও বিজিবি সীমান্তে কড়া পাহারার ব্যবস্থা করে। তার মধ্যেই ৮৭ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে।

মিয়ানমার মুসলিম রোহিঙ্গাদের তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না। তাদের দাবি, রোহিঙ্গারা এই অঞ্চল থেকে গিয়ে সেখানে বসতি গেড়েছে।

আর ১৯৮০ দশক থেকে এখন পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদেরকে ফিরিয়ে নিতে বারবার অনুরোধ করলেও মিয়ানমার তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি।