মেধার অবমূল্যায়নে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক : মেধার অবমূল্যায়ন,গবেষণায় অর্থ বরাদ্দের স্বল্পতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও বিজ্ঞানী বিদেশে পাড়ি জমান। অভিজ্ঞতা অর্জনের পর এই মেধাবীদের অনেকেই দেশে না ফেরায় সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ।

মেধা সম্পদ ফিরিয়ে আনতে সরকারকে গঠনমূলক ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মেধাবীদের মূল্যায়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

দেশ বিদেশের বিশ হাজার কর্মীর পরিশ্রমে নির্মিত হচ্ছে দেশের সবচেয় বড় পদ্মা সেতু। ২০৪১ সালের উন্নত বিশ্বের তালিকাভুক্তর স্বপ্ন নিয়ে জন্য চলছে এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ।

এসব প্রকল্পে অসংখ্য বাংলাদেশি কাজ করলেও এর পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বে আছেন ভিনদেশিরা। অথচ দেশি স্থপতি এফ আর খানের আবিষ্কার টিউবলার পদ্ধতি অনুসরণ করে আমেরিকায় তৈরি হয়েছে ১০২ তলা এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং।

কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ বাণিজ্য, গবেষণায় অর্থ বরাদ্দের অভাব ,পেশার ক্ষেত্রে অবমূল্যায়নে প্রতিবছর দেশ ছাড়ছেন অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলী।

এতে নতুন কোনো এফ আর খান তৈরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। বিএমইটি তথ্য বলছে, ২০১৬ সালে পেশাজীবী, দক্ষসহ ৪ ক্যাটাগরিতে দেশ থেকে বাইরে গেছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৮৭৫ জন। কতজন ফিরেছেন তার পরিসংখ্যান নেই সংস্থাটির কাছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, দেশে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অনুদান দেওয়া হয় না। এছাড়া বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া ও কম সম্মানীর চাকরির কারণেই বাড়ছে বিদেশে যাওয়ার ঝোঁক।

সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিদেশে না থেকে দেশে ফিরে গণিত অলিম্পিয়াড ও শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান চর্চায় আকৃষ্ট করতে কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

মেধাবীদের দেশে না ফেরাকে অজুহাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি যেখানে পড়াশুনা করে এসেছি সেখানে আমার মতো লোক অনেক আছেন। তবে আমার দেশে আমার মতো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকের সংখ্যা খুবই কম। সুতরাং আমাকে আমার দেশের প্রয়োজন।’

মেধাবীদের দেশে থাকতে শিক্ষাভাতা, বিদেশি সাহায্যসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, তাদের দেশে ফেরাতে ইনসেনটিভ দেয়ার পাশাপাশি জাগরণও গড়ে তুলতে হবে।