ভূঁইফোর সংগঠনের ডাকে পরিবহন ধর্মঘট

রোববার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:৩৫ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: আগের দিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি রেষ্টুরেন্টে সরকারি দলের এক নেতার ঘোষণা রোববার সকাল থেকেই অচল হয়ে পড়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম। দু’দিন সাপ্তাহিক বন্ধের পর রোববার অফিস খোলার দিন সকাল থেকেই চট্টগ্রামসহ ১৪ জেলায় গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাকা আর ঘুরছে না।

ধর্মঘটের কবলেপড়া জেলাগুলোর সঙ্গে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ। চট্টগ্রাম মহানগরের অভ্যন্তরীণ রুট ও দূরপাল্লার রুটের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পড়েছেন। পণ্য নিয়ে কোনো পরিবহন চট্টগ্রামের বাইরে যাচ্ছে না এবং চট্টগ্রামে আসতেও পারছে না।

‘চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ নামে গত ক’দিন আগে জন্ম নেয়া সংগঠনিটর আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু জানান, বিআরটিএ ও পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ নয় দফা দাবিতে ‘চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ’ এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

সংগঠনিটর ডাকে রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা থেকে এই ধর্মঘট চলছে। ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, ‘গত ৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে আমরা নয় দফা পেশ করেছি। আমাদের এই দাবি মানতে তিনদিন সময়ও বেঁধে দিয়েছিলাম। তিনদিনের মধ্যে প্রশাসনের কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এজন্য আমরা ধর্মঘট করছি। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়াসহ ১৪ জেলায় একযোগে গণ ও পণ্যপরিবহন বন্ধ আছে।’

মঞ্জু জানান, সংগঠনের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- কাগজপত্র হালনাগাদে বিআরটিএর কার্যক্রমে ভোগান্তি নিরসন, পুলিশের টোকেন বাণিজ্য বন্ধ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্থাপিত ওয়েট স্কেল দুটির পরিচালনার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে প্রদান এবং তল্লাশির নামে হয়রানি বন্ধ করা। রোববার ভোরের সেই আলো আধারিতে শুর হওয়া ধর্মঘটে চট্টগ্রাম নগরী থেকে উপজেলার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে যাচ্ছে না। পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল সীমিতভাবে করলেও চট্টগ্রাম নগরীর বাইরে যাচ্ছে না। নগরীতেও বাস চলাচল করছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের একাংশ আলাদা হয়ে ভিন্ন সংগঠন তৈরি হয়েছে। মঞ্জু গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ গড়ে তুললে একই নামে পাল্টা সংগঠনও দাঁড়িয়ে যায়। জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিজেদের শক্তি জানান দিতে মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন অংশটি আকস্মিকভাবে ৯ দফা দাবি তুলে এই ধর্মঘট আহ্বান করেছে। তবে এই প্রসঙ্গে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, আমি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। ধর্মঘটের কারণে এই মুহুর্তে জনগণের ভোগান্তি হলেও ‘আমাদের ধর্মঘট প্রশাসনের অনিয়মের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে নয়। প্রশাসনকে আমরা চিঠি দিয়েছি, আলটিমেটাম দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের পাত্তাই দিচ্ছে না।”

Leave a Reply