নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য এগিয়ে শেখ হাসিনা

1-389

অনলাইন ডেস্ক :
নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য গঠিত ৫ সদস্যের কমিটি বিশ্বের ১০ জন বিশেষজ্ঞের মতামত চেয়েছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এই ১০ জনকে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে ২০১৭ সালে নোবেল পুরস্কারের জন্য তাঁর বিবেচনায় যোগ্যতম ব্যক্তির নাম জানাতে বলা হয়েছে।

কমিটির পক্ষ থেকে গত ২০ সেপ্টেম্বর তাঁদের মূল্যবান মতামতের জন্য চিঠি পাঠানো হয়। এদের মধ্যে চারজনই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য যোগ্যতম হিসেবে মত দিয়েছেন। পাঁচজন এখনো তাঁদের মতামত জানাননি। নরওয়ের একাধিক সূত্রে এখবর পাওয়া গেছে।

নোবেল কমিটি তালিকার বাইরেও কোনো যোগ্য প্রার্থী আছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করে। এই বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্যরা হলেন, ইউনিভার্সিটি অব ব্রাডফোর্ড এর পিস স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্টোফ ব্লুথ। অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, ৮৬ বছর বয়সী জোহান ভিনসেন্ট গ্যালটাং।

ইউরোপিয়ান পিস রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের(EUPRA) দ্যানিয়েলা ইরিরা। উপসালা ইউনিভার্সিটি, সুইডেনের পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট রিসার্চের অধ্যাপক আলবিন সিসিলা। পিস এ্যান্ড জাস্টিস স্টাডিজের (PJSA) কো চেয়ার ড. লরা ফিনলে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অন নন ভায়োলেন্ট কনফ্লিক্ট(ICNC) এর মেরি এলিজাবেথ কিং। ২০১৬ সালে শান্তিতে নোবেল জয়ী কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। ২০১২ সালে শান্তিতে নোবেল জয়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের মনোনীত প্রতিনিধি। ইউনিভার্সিটি অব অসলোর রেক্টর সেভিন স্টোলেন এবং নরওয়ের বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব বারগেন এর রেক্টর অধ্যাপক ডাগ রান ওলসেন।

এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ব্রাডফোর্ডের পিস স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্টোফ ব্লুথ আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার নাম বলেছেন, কমিটির কাছে প্রেরিত খোলা চিঠিতে তিনি বলেছেন, ছোট দেশের কাছ থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে। শেখ হাসিনাকে নোবেল পুরস্কার দিলে দারিদ্র ও শান্তির জন্য সংগ্রামরত দেশগুলো ভালো কাজে উৎসাহিত হবে।

প্রকাশ্যে না দিলেও ক্রিস্টোফের মতোই শেখ হাসিনার পক্ষে মত দিয়েছেন ৮৬ বছর বয়সী প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জন ভিনসেন্ট গ্যালটাং। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি ওসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ছিলেন। তাঁর মতে, ‘শেখ হাসিনার এই পুরস্কার দেওয়া হলে মুসলিম উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রমশিত হবে। মুসলিম দেশগুলো উদার গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি আস্থাশীল হবে।’

সুইডেনের উপসালা ইউনিভার্সিটির পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট বিভাগের অধ্যাপক আলবিন সেসিলা মনে করেন, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নিধনের ফলে বিশ্বব্যাপী মুসলিম জঙ্গিবাদ আরও ব্যাপক বিস্তৃত হতো যদি না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্রয় না দিতেন।’ তাঁর মতে ‘শেখ হাসিনাই চ্যাম্পিয়ন।’

পিস অ্যান্ড জাস্টিস স্টাডিজ অ্যাসোসিয়েশন (PJSA) এর কো চেয়ার ড. লরা ফিনলে। তিনি মায়ামি, ফ্লোরিডার ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনিও শেখ হাসিনার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা অনিবার্য একটি যুদ্ধ থামিয়েছেন।’

নোবেল কমিটি সাধারণত নিজেদের হালনাগাদ করার জন্য, আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মতামত নেন। এইসব মতামত নোবেল কমিটির ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলে বলে অতীত অভিজ্ঞা থেকে দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চার শিক্ষাবিদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য যোগ্যতম হিসেবে মত দিয়েছেন। এরা হলেন (বাঁ থেকে) অধ্যাপক ক্রিস্টোফ ব্লুথ, জন ভিনসেন্ট গ্যালটাং, আলবিন সেসিলা এবং লরা ফিনলে। ছবি: সংগৃহীত