জঙ্গি আস্তানায় ৭ লাশ: র‌্যাব

ঢাকা :
রাজধানীর মিরপুর মাজার রোডের পাশে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দক্ষিণে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলির ২/৩/বি নম্বর বাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় সাতটি লাশ রয়েছে।

বুধবার দুপুরে র‌্যাবের মহা পরিচালক বেনজীর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এ সব তথ্য জানান।

তিনি জানান, নিহতরা জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত ছিল। আর আবদুল্লাহ ২০০৫ সাল জঙ্গি হয়। সে জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা।

র‌্যাবের প্রধান আরও জানান, বিস্ফোরণে নিহতদের দেহ পুড়ে গেছে। তাই কোনটা পুরুষ কোনটা নারী তা বুঝা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে লাশগুলোর মধ্যে জঙ্গি আবদুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই সন্তান ও তার দুই কর্মচারী রয়েছেন।

এর আগে দুপুর পৌনে ১টার দিকে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খানা জানিয়েছিলেন, ভবনের ৫ম তলায় একটি রুমে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় তিনটি লাশ দেখতেপাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। তবে লাশগুলো দগ্ধ বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

এরও আগে বুধবার সকালে দ্বিতীয় দিনের মত অভিযান শুরু করে র‌্যাব। পরে ফয়ার সার্ভিস, ডগ স্কোয়াড এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলও অভিযানে অংশ নেয়।

উল্লেখ্য, গোপন সংবাদের মাধমে সোমবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার মসিন্দা গ্রামে একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মিলে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে সৈয়দ নুরুল হুদা ওরফে মাসুম (৩৪) ও সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম ওরফে খোকন (২৮) নামের দুই জঙ্গিকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা মিরপুরের মাজার রোডে পাশে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা ওয়ালের গলিতে এক দুর্ধষ জঙ্গি অবস্থান করছে বলে জানায়। এর পরপরই ওই আস্তানা ঘিরে রাখে র‌্যাব। এখনো পর্যন্ত অভিযান চলছে।

মিরপুরের মাজার রোডের পাশে বর্ধনবাড়ি ভাঙ্গা গলির ২/৩/বি নম্বর বাড়িতে দুর্ধষ যে জঙ্গি রয়েছে তার নাম আব্দুল্লাহ বলে জানিয়েছে র‌্যাব। সেটা তার সাংগঠনিক নাম বলে জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি জানান, জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। আত্মসমর্পণ করতে তারা রাজিও হয়েছিল। কিন্তু রাত পৌনে ১০টার দিকে তারা পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটায়। পরবর্তীতে আরো বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর থেকে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।