আগামী মাস থেকে ১০ টাকায় চাল

11-1060

অনলাইন ডেস্ক : আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে আবার ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পল্লী রেশন ডিলারদের মাধমে নির্ধারিত কার্ডধারীদের মাঝে উল্লিখিত মূল্যে মাসে ৩০ কেজি চাল বিক্রি করা হবে। সারাদেশে ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে তিন মাস এই কর্মসূচি চলবে। কোরবানির ঈদের পর সেপ্টেম্বরে এই কর্মসূচি আবার শুরু হবে।

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী মাস থেকেই আমরা আবার ১০ টাকায় চাল বিক্রির কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছি। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই তিন মাস চলবে এই কর্মসূচি।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে খাদ্যের কোনো সংকট নেই। আমরা বাড়তি সতর্কতার জন্য ১৫ লাখ মে. টন চাল আমদানি করছি। দেশের মানুষের মধ্যে চাল নিয়েও কোনো হা হাহাকার নেই।’

দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মুখে ভাত তুলে দেয়ার উদ্দেশ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার। গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। দেশের সব উপজেলায় এই কর্মসূচি চলে। এই চাল নিয়ে যাতে কোনো দুর্নীতি না হয়, সে ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে কর্মসূচির ‍শুরুতে বেশ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়।

এতে অনেক ডিলারশিপের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। এ ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম করায় এখন পর্যন্ত ২২টি মামলা ও ৪৪ জনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়।

এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবার ১০ টাকা কেজিতে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবে। প্রতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর- পাঁচ মাস কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের চাল দেয়া কর্মসূচি চলছে।

গত মার্চ এবং এপ্রিলে এই কর্মসূচি চলেছে। এখন আবার সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং নভেম্বরে এ কর্মসূচি চালু হবে। হতদরিদ্র পরিবারগুলো ডিলারের কাছ থেকে কার্ডের মাধ্যমে এই চাল পাবেন।

প্রতি কেজি চাল ৩৭ টাকা দরে কিনে ১০ টাকা দরে হতদরিদ্রদের হাতে তুলে দেয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিকেজি চালের ওপর ২৭ টাকা ভর্তুকি প্রদান করছে সরকার। এর ফলে সরকারকে প্রতি বছর দুই হাজার ১৩৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্যসচিব কায়কোবাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি চলমান আছে। বন্যায়ও আমরা এটা চালু রাখবো। সেপ্টেম্বর থেকে এই কর্মসূচি তিন মাস চলবে। ’

এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যসচিব বলেন, ‘এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে চাল বিতরণ নিয়ে কিছু অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। ব্যবস্থা নেয়ায় আমরা ফলও পেয়েছি।

গত মার্চ এবং এপ্রিলে এই কর্মসূচিতে কিন্তু আমরা কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাইনি। ফলে আর এমন ঘটনা ঘটবে না বলেই আমার কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।’