৭২ কোটি টাকা আত্মসাৎ: ছিদ্দিক ছাতার মালিক কারাগারে

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে বেসরকারি যমুনা ব্যাংকের ৭২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ছিদ্দিক ট্রেডার্সের মালিক আবু সাঈদ চৌধুরী সম্রাটকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. শাহে নুর এ আদেশ দেন।

দুদকের পরিদর্শক এমরান হোসেন জানান, উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন ছিদ্দিক ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ৩০ জুলাই দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সিরাজুল হক নগরীর কোতোয়ালি থানায় আবু সাঈদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। মামলার অন্য আসামি হলেন যমুনা ব্যাংকের সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খাতুনগঞ্জ শাখার সাবেক প্রধান মনজুরুল আহসান চৌধুরী। তিনি শুরু থেকেই পলাতক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১১ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মঞ্জুরিপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে যমুনা ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে সুদসহ মোট ৭১ কোটি ৯২ লাখ ৩ হাজার ১১৬ টাকা আত্মসাৎ করেছেন আবু সাঈদ চৌধুরী। তাকে এ কাজে সহায়তা করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান চৌধুরী।

ছাতা প্রস্তুতকারী পুরনো প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের মেসার্স ছিদ্দিক ট্রেডার্স। বাবার রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের সুনামকে পুঁজি করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ সুবিধা নিয়েছেন ছিদ্দিক ট্রেডার্সের বর্তমান স্বত্বাধিকারী আবু সাঈদ চৌধুরী। বছরের পর বছর পার হলেও ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেননি।

বর্তমানে ছিদ্দিক ট্রেডার্সের কাছে এক ডজনের বেশি ব্যাংকের পাওনা রয়েছে হাজার কোটি টাকা। ভোগ্যপণ্য ব্যবসার নামে ঋণ নিয়ে অন্য খাতে বিনিয়োগ ও ব্যক্তিগত বিলাসে ব্যয়ের কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, ব্যবসায়িক প্রয়োজন না থাকলেও বিদেশ ভ্রমণে বেশি আগ্রহী এ ব্যবসায়ী। ২০১২ সালে বিলাসবহুল দুটি গাড়ি কেনার জন্যও ঋণ নেন আবু সাঈদ।