প্রতিবন্ধীকে কারাগারে পাঠিয়ে পুলিশের দু:খ প্রকাশ

সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:২১ পিএম

আদালত প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামে চেক প্রতারণার মামলায় প্রকৃত আসামিকে আড়াল করে এক মানসিক প্রতিবন্ধীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ। এরপর ১৩ দিন কেটে গেছে সেই কারাগারে। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিতে আসার পরই কারাবন্দি সেই মানসিক প্রতিবন্ধী নুরুল আবছারকে মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মানসিক প্রতিবন্ধী নুরুল আবছারকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন সাতকানিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জহিরুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে ব্রাজিলে অবস্থান করছেন। ব্র্যাক ব্যাংকের করা মামলার মূল আসামির নাম নুরুল আবছার হওয়ার সুবাধে এই কা- ঘটনান পুলিশের এই সহকারী উপপরিদর্শক জহিরুল ইসলাম।

আদালত সূত্রে জানাগেছে, মূল আসামি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সেই আসামির নামের সাথে এই মানসিক প্রতিবন্দি নুরুল আবছারের নাম মিল থাকার সুযোগে তাকে গ্রেফতার করে গত ১৯ আগস্ট কারাগারে পাঠায় সাতকানিয়া থানা পুলিশ। সেই থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে বিন্দ ছিলেন তিনি। বিষয়টি আদালতের নজরে আসায় সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) পঞ্চম মহানগর দায়দা জজ আদালতের বিচারক জহির উদ্দিন কারাবন্দি নুরুল আবছারকে মুক্তি দেন।

এদিকে নুরুল আবছারকে গ্রেফতারের পর এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হতেই তথ্যনিয়ে লুকোচুরি শুরু হয় সাতকানিয়া থানা পুলিশের। বিষয়ে কাউকে না জানানোর জন্য আবছারের পরিবারকে টাকাও দেয়া হযেছে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে।

সোমবার কারাবন্দি নুরুল আবছারের পক্ষে আদালতে আসা মো. তাহেরও পুলিশের বিষয়টি বারবার আড়াল করার চেষ্টা করেন। তিনি বারবার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সাতকানিয়া থানার ওসি অনুরোধ করছেন যাতে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি না জানানো হয়। গ্রেফতারের পর ভরণপোষণের জন্য থানার পক্ষ থেকে নুরুল আবছারের পরিবারের সদস্যকে টাকাও দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) এডভোকেট বিশ্বজিৎ বড়–য়া জানান, ব্র্যাক থেকে নেয়া ঋণের অনুকূলে ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৮১ টাকার ঋণ বাবদ চেক প্রদান করে নুরুল আবছার নামের এক ব্যক্তি। চেকটি ডিজঅনার হওয়ায় ব্র্যাক ব্যাংক তার বিরুদ্ধে চেক প্রতারণার মামলা করে। ওই মামলার আসামি নুরুল আবছারের পিতা নুরুল কবির উল্লেখ রয়েছে। তার বাড়ি সাতকানিয়ার গারাঙ্গিয়ার হাতিয়ারকূল এলাকায়।

ওই মামলায় রায় হয় গত ২৩ এপ্রিল। মামলার আসামি নুরুল আবছারকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ১ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর আদালত গত ১৩ মে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সাতকানিয়া থানার এএসআই জহিরুল ইসলাম গত ১৯ আগস্ট প্রতিবন্ধী নুরুল আবছারকে গ্রেফতার করে আদালতে গ্রেরণ করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। কারাবন্দি নুরুল আবছারের পিতা মৃত নুরুন্নবী। তার বাড়ির ঠিকানা সাতকানিয়ার গারাঙ্গিয়ার নুরুল ইসলাম পাড়া।

গত ৩১ আগস্ট সাতকানিয়া থানার এএসআই জহিরুল ইসলাম পঞ্চম মহানগর দায়রা জজ আদালতে অনিচ্ছাকৃত ও ভুলবশত প্রকৃৃত আসামির পরিবর্তে মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ভুল স্বীকার করে একটি প্রতিবেদন দেন। আদালতের কাছে এটি তার অনিচ্ছাকৃত ভুল উল্লেখ করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেন এএসআই জহির।

পঞ্চম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পেশকার ফরিদ আহমদ প্রতিবন্ধী নুরুল আবছারের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।##