১০৬ নম্বর কয়েদি ভাইজান

অনলাইন ডেস্ক :
দীর্ঘ ২০ বছর পরে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার মামলার রায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের।

গতকাল বৃহস্পতিবার যোধপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার খতরি এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার রূপি জরিমানাও করা হয়। একই মামলার অভিযোগ থেকে অভিনেতা সাইফ আলী খান, নীলম এবং অভিনেত্রী টাবু ও সোনালী বেন্দ্রেকে অব্যাহতি দেয় আদালত।

রায় ঘোষণার পর বৃহস্পতিবারের রাতটা জেলেই কাটাতে হয়েছে বলিউডের প্রভাবশালী অভিনেতা সালমান খানকে। জেলখানায় তিনি ১০৬ নম্বর কয়েদি। চার দেয়ালের মাঝে বর্তমানে এটাই বলিউড ভাইজানের পরিচয়। জামিন না হওয়া পর্যন্ত এই পরিচয় নিয়েই তাকে হাজতবাস করতে হবে।

বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পরে সালমান খানকে যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার ডিআইজি বিক্রম সিং জানান, ‘বন্দি অভিনেতার জন্য জেলখানায় কোনো বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সাধারণ বন্দিদের মতোই তাকে থাকতে হবে।’

পাশাপাশি পানীয় জলসহ বিশেষ কোনো কিছুর জন্য সালমান অনুরোধ জানাননি বলেও উল্লেখ করেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সালমানকে ১০৬ নম্বর কয়েদি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাকে দুই নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যগত কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।’

সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং করতে গিয়ে তিনি ও অন্যরা দুটি কৃষ্ণসার হরিণ গুলি করে মারেন। ভারতীয় আইনে যেটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তার কয়েকদিন পরেই যোধপুর আদালতে মামলা করেন এক ব্যক্তি। ওই মামলায় সালমান ছাড়াও অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ আরো সাত জনকে আসামি করা হয়।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের ৯ (৫১) ধারায় বিচারক সে সময়ই সালমানকে অপরাধী ঘোষণা করেছিলেন। দীর্ঘ ২০ বছর পরে সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫এপ্রিল, বৃহস্পতিবার বলিউড সুপারস্টারকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার রূপি জরিমানা করে ভারতের যোধপুর আদালত। সূত্র: ইকোনমিক টাইসমস, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড