প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০১৮, ১৩:৫০:২২

ডা.খুরশিদ জামিলের বক্তব্যে বিএনপিতে অসন্তোষ

চট্টগ্রাম : সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল নিয়ে বিএনপি সমর্থিত ডাক্তারদের সংগঠন ড্যাবের সভাপতি ডা. খুরশিদ জামিলের প্রচার হওয়া চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে বিএনপির মধ্যে।

বুধবার রাতে বিএমএর কয়েকজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতার সাথে গোপন বৈঠক করেন ডা. খুরশিদ। ঐ বৈঠকের ডা. খুরশিদের বক্তব্য ফেসবুকে লাইভ প্রচার করা হয়। মুহুর্তের মধ্যেই এ বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। যা বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

তবে বিএনপি নেতা পরিচয়ধারী ডা. খুরশিদ জামিলের কোনো দায় নিতে রাজি নয় বিএনপি নেতারা। শুধু তাই নয়, ডা. খুরশিদ জামিল বিএনপির কেউ নয় বলেও দাবি করেন কয়েকজন বিএনপি নেতা। তারা বলেন, খুরশিদ জামিল বিএনপির কোনো পদে নেই, তার বক্তব্যের সাথে বিএনপির কোনো সম্পর্কও নেই। উস্কানিমূলক বক্তব্যের কোনো দায় বিএনপি নেবে না।

এ বিষয়ে কথা হলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমি তাকে (ডা. খুরশিদ জামিল) চিনি না। এটা স্থানীয় বিষয়, আপনারা স্থানীয় নেতাদের বলেন। তারা সেটা দেখবেন। সাংবাদিকদের সাথে বিএনপির দূরত্ব সৃষ্টি করে এমন কোনো মন্তব্য কোনো নেতা করার কথা নয়।

একই বিষয়ে কথা হলে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডা. খুরশিদ জামিল বিএনপির কোনো পদে নেই। ওনি ড্যাবের নেতা হিসেবে সে বৈঠকে ছিলেন। যেহেতু ওনি বিএনপির কোনো পদে নেই, ওনার কোনো বক্তব্যের দায় বিএনপি নেবে না।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য গতকাল একাধিকবার ডা. খুরশিদ জামিলের মোবাইলে ফোন করার চেষ্টা করা হলেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

বুধবার রাতে ভাইরাল হওয়া গোপন বৈঠকের ভিডিওতে বিতর্কিত ডা. খুরশিদ জামিল বলেন, প্রত্যেক সরকারি ডাক্তারের সাথে বেসরকারি ডাক্তারের সম্পর্ক আছে। কেউ স্বীকার করে কেউ করে না। সব জায়গায় স্ট্রাইক করতে হবে। এক সাথেই করতে হবে। আলোচনা চলবে, পাশাপাশি স্ট্রেন্থ (দৃঢ়তা) দেখাতে হবে। ওদের প্রেস কাউন্সিল আছে, আমাদের বিএমডিসি আছে। তারপরও আমাদেরকে আটক করে নিয়ে যায়।

ম্যাক্স হসপিটালের এমডি ডাক্তার লিয়াকতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তোমার ডাক্তার, নার্সকে উপর থেকে লিফটে করে নিচে এনেছে। তখন তোমার স্টাফ, নার্স, কর্মচারী, সিকিউরিটি কোথায় ছিলো? আমাদের সাথে মিটিং করার আগে তুমি ঘরের মধ্যে মিটিং করো। প্রত্যেকে নিজের প্রতিষ্ঠানে মিটিং করেন। মেডিক্যাল কলেজে বড় আকারে মিটিং করেন। মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে বাহিরের সঙ্গে মিলিয়ে আবার মিটিং করুন। অন্যদের থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ করুন। লিফটম্যান, দারোয়ান সবাই মাইর খায়। ডাক্তাররা খাওয়ার আগে তারা খায়। তাদেরও তিনি একত্রিত করার পরামর্শ জানান।

এরপর তিনি বলেন, তারাও (কর্মচারী, স্টাফ) মাইর থেকে বাঁচতে হবে, আমরাও মাইর থেকে বাঁচতে হবে। মাইর দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত মাইর না দিবা, ততক্ষণ পর্যন্ত কিচ্ছু হবে না। সিরাজ ভাইয়ের সাথে (বিএমএ’র সাবেক নেতা ও প্রবীন চিকিৎসক, বামপন্থী বুদ্ধিজীবী) সাংবাদিকদের বন্ধুত্ব, আমাদের সাথেও যথেষ্ট বন্ধুত্ব আছে। ওরাতো একজোট হইছে। সামনে যে বিএফইউজে নির্বাচন, ওটার জন্য একটা কম্পিটিশনও আছে।

ওদের মধ্যে ভাঙ্গন আছে। আমরা একটা দিকে এগিয়ে আছি। আমাদের যে ইউনিটি সেটা ওদের মাঝে নেই। ওদের সাথে আজকেও আমার দেখা হয়েছে। ওখানে বিএনপি-জামায়াত ছিল। ওরা আমার কানে কানে বলে কোনটার বিরুদ্ধে কী করতে হবে।

এ বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর সর্বস্তরের সাংবাদিক, পেশাজীবীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দুঃখ ও অনুশোচনা প্রকাশ করেন কিছু বিএনপি নেতাও। ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে উত্তর জেলা বিএনপির মধ্যে। উত্তর জেলা বিএনপির নতুন কমিটিতে সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে নাম আলোচনায় আসা ডা. খুরশিদের এমন বক্তব্যে হতাশ উত্তর জেলার নেতাকর্মীরাও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্তর জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, একে তো আমরা দুঃসময়ে আছি। এ অবস্থায় কোনভাবেই এমন বক্তব্য ওনি দিতে পারেন না। ডা. খুরশিদ জামিলের বক্তব্যে পুরো বিএনপি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বক্তব্যে ওনি সাংবাদিকদের সাথে বিএনপির দূরত্ব তৈরি করছেন। এজন্য দলীয়ভাবে ওনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা ও আইনজীবি ইফতেখান হোসেন মহসীন তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন, বিএনপির সুবিধাভোগী এক তথাকথিত বিএনপি নেতাকে আনফ্রেন্ড ও ব্লক মারলাম। আমি সাচ্চা জাতীয়তাবাদী ও বেগম জিয়া-তারেক জিয়ার নিবেদিত প্রাণ কর্মী ও বিশ্বস্থ সৈনিক, আমি মানুষের জন্য রাজনীতি করি। যার হাতে ছোট শিশু রাইফার রক্তের দাগ নিজে লাগালেন তাকে অন্তত আমার বন্ধু তালিকায় রাখা যায় না। প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা ক্ষমা করবেন।

সাংবাদিক রুবেল খানের আড়াই বছরের কন্যা শিশু রাইফা খানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন চলে আসছে। কতিপয় ডাক্তার, নার্স ও মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তিসহ সুনির্দিষ্ট তিন দফা দাবিতে চলে আসছে এ আন্দোলন। সাংবাদিকদের এ আন্দোলনে সরকারি দলের নেতৃবৃন্দ, উচ্চপদস্থ আমলাসহ সর্বস্তরের মানুষজন একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে চলমান এ আন্দোলন কোনো অবস্থাতেই বিএমএ বা সকল ডাক্তারের বিরুদ্ধে আন্দোলন নয় বলে শুরু থেকেই বলে আসছিল চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন। এরই মধ্যে কতিপয় এসব ডাক্তারদের বাঁচাতে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত-বিএনপির চিকিৎসক নেতৃবৃন্দের সাথে হাত মিলিয়েছে প্রগতিশীল দাবিদার বিএমএর চিকিৎসকদের একটি অংশ।