প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০১৬, ১৭:২৭:৪৫

সংখ্যালঘুদের বিক্ষোভ, হানিফের গাড়িতে লাথি

4-5
ঢাকা :: রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

অবরোধ চলাকালে ওই পথে যাওয়ার সময় বিক্ষোভের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। পরে তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনদের মন্দির ও বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুঠপাটের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলকারীরা জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে শাহবাগ এলাকায় গিয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন।

দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত তাঁরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন। এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সেখান থেকেও কয়েকটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে যোগ দেন।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষ করে ফিরছিলেন মাহবুব উল আলম হানিফ। বিক্ষোভকারীরা তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরেন। কেউ কেউ তাঁর গাড়িতে লাথি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি গাড়ি থেকে নেমে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন।

এ ব্যাপারে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলাম। শাহবাগে আসার পরে নাসিরনগরে হামলার প্রতিবাদে আন্দোলনকারী কিছু ছাত্র আমার গাড়ি রোধ করে। আমি গাড়ির ভেতরে ছিলাম। তারা দেখেনি।’

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মিছিল থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করা হয়েছিল।

তিনি জানান, আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদী মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচি থেকে হামলাকারীদের শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মন্ত্রী ছায়েদুল হকের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন, সচেতন হিন্দু পরিষদ, জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, মাইনরিটি সংগ্রাম পরিষদ, জগদ্বন্ধু মহাপ্রকাশ মঠ, জাগো হিন্দু পরিষদ, ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদ, মহিলা ঐক্য পরিষদ, জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট, জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোট, জাতীয় হিন্দু মহাজোটসহ বিভিন্ন সংগঠন আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাব এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনগুলো।

অন্যদিকে পাঁচ দফা দাবিতে আগামী ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জাতীয় হিন্দু মহাজোট বলেছে, দাবি পূরণ না হলে কঠোর গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সিটিজিসান.কম/রবি