প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৭, ১১:১৮:০৯

বিমানবন্দর রুটে ইনকনট্রেড ডিপো নির্মিণে যানজট ও ভোগান্তি

patenga

চট্টগ্রাম : শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাত্রীদের নিয়মিত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ পতেঙ্গার লালদিয়ারচর এলাকায় অবস্থিত সড়কের পাশে নির্মিত কনটিনার ডিপো ইনকনট্রেড লিমিটেড।

বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোটির সামনে বিমানবন্দর সড়কে যত্রতত্রভাবে গাড়ি পার্কিং করার কারণে ফ্লাইট মিস করছেন যাত্রীরা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কের পাশে বন্দর কর্তৃপক্ষের বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো অনুমোদন দেওয়া উচিত হয়নি বলে মনে করছেন তারা।

বিমানবন্দর যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ডিপোটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন একাধিক যাত্রী। অন্যদিকে ইনকনট্রেড লিমিটেড কর্তৃপক্ষের দাবি বিমানবন্দর সরিয়ে নেওয়ার। তাদের মতে সমুদ্র বন্দরের পাশে বিশ্বের কোন দেশে বিমানবন্দর নেই। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক নিমানবন্দর করে চট্টগ্রামকে কানা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

ইনকনট্রেট লিমিটেড’র সামনে সড়ক বন্ধ থাকায় চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে একাধিক যাত্রী বিমানের ফ্লাইট মিস করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা জানান, ইয়ার্ডের ভেতর ও বাইরে পার্কিং এলাকা সংকুলান না হওয়ায় সড়কে যত্রতত্রভাবে ট্রাক-লরি রাখা হয়। এতে বিমানবন্দরগামী গাড়ি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে নিয়মিত। ইনকনট্রেড লিমিটেড’র সামনে বিমানবন্দর সড়কে দাঁড়িয়ে আছে কাভার্ডভ্যান

শুক্রবার-শনিবার (১৭ ও ১৮ নভেম্বর) বিভিন্ন সময়ে ইনকনট্রেড লিমিটেড’র সামনে সরেজমিন অবস্থান, এলাকাবাসী ও গাড়ি চালকদের সঙ্গে কথা বলে বিমানযাত্রীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ডিপোর প্রধান গেইটে যত্রতত্রভাবে গাড়ি রাখার কারণে শুক্রবার বিকেলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিমানবন্দরগামী ও সাধারণ যাত্রীরা।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অবস্থান করে করে দেখা গেছে, ইনকনট্রেড লিমিটেড’র সামনে প্রায় অর্ধ শতাধিক গাড়ি পাকিং করা রয়েছে। রফতানি পণ্যবাহী কন্টেইনার নিয়ে ট্রাক-লরি এসে সেখানে অবস্থান করছে। অথচ এসব গাড়ি ডিপোর ভেতরে যাওয়ার কথা।

সড়কের দুই পাশ থেকে ডিপোতে গাড়ি প্রবেশের কারণে বিমানবন্দরগামী গাড়ির স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ডিপোতে গাড়ির প্রবেশের সময় সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়িকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

ঢাকার এপেক্স সু কারখানা থেকে রফতানি পণ্য নিয়ে এসেছেন রমজান। পণ্য নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার কথা থাকলেও রফতানিকারকের সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় বাইরে অপেক্ষা করতে ডিপোতে ট্রাক-লরি প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়

বর্তমানে এখন যেখানে ইনকনট্রেড লিমিটেড গড়ে উঠেছে সেই লালদিয়ার চরে এক সময় ঘর ছিল ৬৬ বছরের বৃদ্ধ রুহুল আমীনের। বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের উচ্ছেদের পর থেকে পাশের একটি বস্তিতে পরিবার নিয়ে ভাড়া ঘরে থাকেন।

ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ তো দুরের কথা উল্টো মামলার আসামী হতে হয়েছে অনেককে। ডিপোতে আসা ট্রাক-লরির যানজটের জন্য প্রায় সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বিমান যাত্রীদের ভোগান্তি সৃষ্টি করায় ডিপোটি সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম এ লতিফ।

তিনি বলেন, নগরীতে যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ যেখানে সেখানে বেসরকারি ডিপো গড়ে ওঠা। এসব ডিপো সিটি থেকে ২০ কিলোমিটার দুরে সরিয়ে নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া উচিত।

তবে ইনকনট্রেড লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহসীন সরকার যিনি এক সময় বন্দরের কর্মকর্তা ছিলেন তার মতে ডিপো নয়, বিমানবন্দর সরিয়ে নেওয়া উচিত। কারণ বিশ্বের কোথাও সমুদ্র বন্দরের পাশে বিমানবন্দর নেই।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৯১ দশমিক ৩৫৭ স্কয়ার মিটারের ডিপোতে ৭ হাজার কন্টেইনার রাখার ধারণক্ষমতা রয়েছে। অথচ একই স্থানে বন্দর ইয়ার্ড তৈরি করলে অন্তত ১২ থেকে ১৫ হাজার কনটেনার রাখতে পারে।

এ ব্যাপারে বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো.জাফর আলম বলেন, এ প্রস্তাব আমি অনেক আগেই দিয়েছিলাম। ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের ওদিকেই যেতে হবে।

যানজটের বিষয়ে তিনি বলেন, শনিবার (১৮ নভেম্বর) বিমানবন্দর থেকে আসার সময় বিষয়টি খেয়াল করেছি। ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগির সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।