প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৭, ১৫:৪০:১৭

কাল চট্টগ্রামে আসছেন খালেদা জিয়া

চট্টগ্রাম : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কক্সবাজারে আসার খবরে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। গত রোববার রাত থেকেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে জেলা বিএনপি কার্যালয়। প্রতিদিন কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানানোর। ওই দিন সড়ক পথে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত জনস্রােত নামানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

দীর্ঘ তিন মাসের লন্ডন সফর শেষে গত ২২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় দেশে ফিরেন বেগম খালেদা জিয়া। তার এই সফর চিকিৎসার জন্য হলেও সফরকে ঘিরে শুরু থেকেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ এবং রাজনৈতিক মহলে চলছিল অনেক জল্পনা-কল্পনা। কারণ বিএনপি প্রধানের এই সফরের মাধ্যমে আসতে পারে আগামী নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা এবং আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তাই দেশে এসেই আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা মামলার জামিন নেন বেগম জিয়া। পরে দলের স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে রোহিঙ্গাদের দেখতে আসার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি।

কর্মসূচি অনুযায়ী আগামীকাল ২৮ অক্টোবর শনিবার গুলশান কার্যালয় থেকে সকাল ১০টায় বের হয়ে সড়ক পথে চট্টগ্রাম এসে সার্কিট হাউজে রাত যাপন করবেন খালদা জিয়া। পরদিন ২৯ অক্টোবর রোববার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে সড়ক পথে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন। ওই দিন বিকেল ৪টায় কক্সবাজার সার্কিট হাউজে উপস্থিতি হবেন এবং রাত যাপন করবেন। পরের দিন ৩০ অক্টোবর সোমবার সকাল ১০ টায় কক্সবাজার সার্কিট হাউজ থেকে উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

সকাল ১১ টায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছে বালুখালী পানবাজার ড্যাব পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্প, বালুখালী-২ রোহিঙ্গা ক্যাম্প, গয়ালমারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবেন। সেখান থেকে দুপুর ২ টায় কক্সবাজার সার্কিট হাউজের উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন। পরে বিকেল ৪ টায় কক্সবাজার সার্কিট হাউজ থেকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেদিনও চট্টগ্রামে রাত্রী যাপন করার কথা রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারের শীর্ষ বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়া কক্সবাজারে আসবেন তাই সড়ক পথে শো-ডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও মহিলাদলসহ বিএনপির জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগে এ শোডাউনের প্রস্তুতি চলছে।
বেগম জিয়ার কক্সবাজারে আসার চূড়ান্ত তারিখ জানার পর উখিয়া উপজেলা বিএনপির উদ্যেগে নেতাদের সঙ্গে প্রস্তুতি বৈঠক হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের সেনাদের অব্যাহত নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে আসবেন আমাদের প্রিয় নেত্রী। তাই দলের প্রত্যেক নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে অত্যান্ত সু-শৃঙ্খলভাবে সংবর্ধনা জানানো হবে। তবে এবার দলের নেতাকর্মীসহ সড়ক পথে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামবে বলে তিনি জানান।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। কক্সবাজারসহ আশপাশের উপজেলাগুলো থেকেও নেত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে আসবেন নেতা-কর্মীরা।
কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, দেশনেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে আসবেন সে-খবরে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। দলের চেয়ারপারসনকে সড়কপথে জনতার স্রােত মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হবে।

আমাদের নেতাকর্মীরা দেশনেত্রী আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। বিএনপির মতো একইভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে অঙ্গসংগঠনগুলো। ওই দিন চেয়ারপারসনকে সংবর্ধনা জানাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পর্যন্ত জনস্রােত নামানোর পরিকল্পনা করছে স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল, ছাত্রদল ও মহিলাদলের নেতাকর্মীরা।

কক্সবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি ছৈয়দ আহমদ উজ্জল বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের ঐক্যের প্রতীক হলেন বেগম খালেদা জিয়া। সকলেই তার কক্সবাজারে আসার জন্য অপেক্ষা করছে।

আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে অতিষ্ট মানুষ তার দিকেই তাকিয়ে আছে। তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও ক্যাম্প পরিদর্শন করতে আসছেন। এটা কোনো দলীয় জনসভা নয়, তাই মানবতার নেত্রী হিসেবে সড়কে দাড়িয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী তাকে অভ্যর্থনা জানাবে। সেভাবে প্রস্তুতিও চলছে। বিএনপি চেয়ারপারসন কক্সবাজারে আসার দিনে গুলশান থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পর্যন্ত মানুষের জনস্রােত নামবে বলেও মনে করেন তিনি।