প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০১৭, ১২:৫৮:৪৯

এমএস রডের দাম টনপ্রতি ৮-১০ হাজার বৃদ্ধি

অনলাইন ডেস্ক : পাথরের দাম আগে থেকেই বাড়তি। যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই নতুন করে এমএস রডের দাম টনপ্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রডের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধিতে নির্মাণ শিল্পে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এ জন্য এমএস রড উৎপাদনকারী প্রধান প্রধান কোম্পানিকে দায়ী করছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্সট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বাসি)। তাদের দাবি, রড উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো পারস্পরিক যোগসাজশ তথা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রডের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে চলেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, নির্মাণ শিল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান রডের দাম গত দুই মাসে ১০ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়েছে।

বিএসআরএম, আবুল খায়ের, কেএসআরএমের মতো বড় প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ৬০ গ্রেডের প্রতি টন রড ৫৭ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই মাস আগেও এসব রড ৪৭ হাজার থেকে ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। অন্য দিকে, সনাতনি কারখানায় উৎপাদিত মাঝারি মানের রডের দাম এখন ৫২ হাজার থেকে ৫৪ হাজার টাকা। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বিশ্ববাজারে রডের প্রধান কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও বিলেটের দাম বৃদ্ধি এবং দেশের চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট ও গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার কারণে রডের দাম বেড়েছে।

তবে ইস্পাত কোম্পানিগুলোর এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্সট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বাসি) সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মনির উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এমএস রডের প্রধান উপাদান বিলেট দেশেই উৎপন্ন হয়। খুব কম পরিমাণ বিলেটই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এ শিল্পের ওপর নতুন করে কোনো ভ্যাট-ট্যাক্সও আরোপ করা হয়নি।

এ ছাড়া গ্যাসের মূল্য সমন্বয়ের কারণে রডের দাম সর্বোচ্চ এক শতাংশ বাড়তে পারে। কোনো কারণ ছাড়াই রডের দাম ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়া অযৌক্তিক এবং অনৈতিক বলেও দাবি করেন তিনি।

বিক্রেতারা জানান, কোরবানির ঈদের আগে এক দফা ও পরে আরেক দফায় রডের দাম ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা বেড়েছে।

মিরপুরের তালতলার মেঘনা স্টিল এজেন্সিতে গিয়ে দেখা যায়, বড় কোম্পানিগুলোর ষাট গ্রেডের রডের দাম টনপ্রতি ৫৬ হাজার ৮০০ থেকে ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা। আগস্টের মাঝামাঝিতে এই রডের দাম ছিল ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি। আর ৪০ গ্রেডের রডের দাম টনপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগস্টে এই রডের দাম ছিল ৪৪ হাজার টাকা।

রাজধানীর নয়াবাজারে রহিম স্টিলের রডের ডিলার বর্ণিল স্টিল হাউজের ব্যবস্থাপক ইয়াকুব হোসেন বলেন, কোরবানির ঈদের ১৫ দিন আগে প্রতি টন রড ৪৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আর ঈদের পর ৫৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছিল। এক হাজার কমে এখন ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করছি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি অর্থবছর থেকে রডের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হওয়ার কথা ছিল। এ কারণে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে বাজেট ঘোষণার পর পরই রডের দাম এক দফায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। শেষ পর্যন্ত নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাওয়ায় সেটি হয়নি। তবে ব্যবসায়ীরা রডের দাম কমাননি, উল্টো বাড়িয়েছেন। এ নিয়ে সরকারের কোনো মহল থেকে নাড়াচাড়াও পড়েনি।

পরে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের অজুহাতে আরেক দফা দাম বাড়ান ইস্পাত শিল্পের উদ্যোক্তারা।

এ প্রসঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ অটো রিরোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন বলেন, বাজেটের পর পাইকারি ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে রডের দাম বাড়িয়েছিলেন। আমরা মিলমালিকেরা বাড়াইনি। অবশ্য বাড়তি দাম পরে সংশোধন হয়। তবে মাস দুয়েক আগে বিশ্ববাজারে হঠাৎ করেই রডের কাঁচামাল স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ ডলার বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজটের কারণে প্রতি টনে খরচ বেড়েছে ৩০ থেকে ৩৫ ডলার। এ ছাড়া, গত কয়েক মাসে গ্যাস-সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। দেড় মাস ধরে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে গেছে। এসব কারণেই রডের দাম বেড়েছে বলে জানান তিনি।