প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৪৬:১৪

এবার চার্জশিট বাণিজ্যে পুলিশ!

গাজীপুর : গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে বিভিন্ন মামলার চার্জশিট। ঘটনার সঙ্গে জড়িত গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি থাকা সত্ত্বেও চার্জশিট দিচ্ছে না পুলিশ।

দীর্ঘদিন চার্জশিট ঝুলিয়ে রেখে মামলার বাদী ও আসামিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ চার্জশিট দেই-দিচ্ছি বলে কালক্ষেপণ করছে। এতে মামলার বাদীরা থানায় ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। টঙ্গী ও জয়দেবপুর থানাসহ সবকটি থানার একই চিত্র।

সূত্র জানায়, গত বছরের ১৫ মে এরশাদনগর এলাকায় শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের ৪৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি শরীফ ও তার সহযোগী জুম্মন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনার প্রায় দেড় বছর পার হলেও মামলার চার্জশিট দিচ্ছে না পুলিশ।

এ নিয়ে মামলার বাদী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। মামলার চার্জশিট দাখিলে কালক্ষেপণ হওয়ায় আসামিরা জামিনে এসে বাদীকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা কামরুল ইসলাম কামু ও তার সহযোগীরা গ্রেফতার হওয়ার পর অনেকেই জামিনে বের হয়ে আসেন।

পরে মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ নিয়ে থানায় জিডিও রয়েছে। এদিকে বায়িং হাউসের কর্মচারী টঙ্গী সাতরং এলাকার তৌফিকুল ইসলাম তানভির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার মা ইসমত আরা বলেন, আয়নাল ও রিয়াদ আমার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। পরে তাকে নিমতলীর একটি ডোবায় ফেলে রেখে যায়।

এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় করা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী শাওন ঘটনার মূল রহস্য উদ্ধার কিংবা অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে আসামিরা মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তানভিরের পরিবার।

অপরদিকে গত ১৯ আগস্ট টঙ্গীর টিএন্ডটি এলাকায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল হাসান লিটনের সঙ্গে গাজীপুর ডিবি পুলিশের এসআই নূর মোহাম্মদের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে এসআই নূর মোহাম্মদ ক্ষিপ্ত হয়ে লিটনকে তুলে নিয়ে ডিবি অফিসে রাতভর আটকে রেখে নির্যাতন চালান। মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পুলিশ মারতে মারতে বলে, শালা আওয়ামী লীগ করস টাকা দিবি না। পরে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে ৩৪ ধারায় গাজীপুর আদালতে চালান করেন।

এ বিষয়ে এসআই নূর মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ৩৪ ধারায় আদালতে প্রেরণের বিষয়টি স্বীকার করলেও পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পুলিশের এমন কর্মকাণ্ডে হতাশ গাজীপুরবাসী। শরীফ ও তার সহযোগী জুম্মন হত্যা মামলার চার্জশিটের ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী থানার পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন (১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার)