প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৫:৩৮:০৭

কারাগারেই হত্যা করা হবে রাম রহিমকে

অনলাইন ডেস্ক :
ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু রাম রহিম সিংয়ের ডেরার দপ্তরে শনিবারও হানা দিয়েছে হরিয়ানা পুলিশ। মাটি ফুঁড়ে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে তাতে খুব একটা বিচলিত নন গুরমিত রাম রহিম। বরং নিজের নিরাপত্তার নিয়েই বেশি চিন্তিত। জেলবন্দী কুখ্যাত অপরাধীরা যদি তাকে মেরে ফেলে!‌

এই ভয়েই দিন কাটছে তার। তাই বলে কয়ে রোহতকের সুনারিয়া জেলে নিজের জন্য ১৫–২০ জন নিরাপত্তারক্ষী আদায় করে নিয়েছেন তিনি। তাতে খাপ্পা অন্য বন্দীরা। শুক্রবার জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছে সোনু পণ্ডিত।

সে জানিয়েছে, ‘‌অন্য বন্দীরা বাবার ওপর এমনিতেই চটে। পারলে দু’‌এক ঘা বসিয়ে দেয়। তাতে ভয় পেয়েছেন রাম রহিম। তাই বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাতে সমস্যা আরো বেড়েছে। উনি জেলে আসার পর বাকি বন্দীদের ওপর হাজারো নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। তাই সকলে ওর ওপর খুব বিরক্ত।’‌

তবে জেলের মধ্যে বাবা যে বহাল তবিয়তেই আছেন তা নিশ্চিত করেছে পণ্ডিত। সে জানিয়েছে, ‘‌কয়েদিদের পোশাক গায়ে চড়াননি রাম রহিম। নিজের সাদা পোশাক পরেই থাকেন। এমনকী কোনো কাজও করেন না। দিন প্রতি ৪০ রুপির মজুরিতে গাছপালা পরিচর্যার কাজ পেয়েছেন বলে দিন কয়েক আগে খবর রটেছিল বটে। তা একেবারেই ঝুটো।’‌

জেলবন্দী অন্য ধর্ষকদের তুলনায় তাকে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সোনু পণ্ডিত। জেলে রাম রহিমের পাশের কুঠুরিতেই ছিলেন দলিত সমাজকর্মী স্বদেশ কিরাদ। ছাড়া পেয়ে দিন কয়েক আগে তিনিও একই কথা বলেছিলেন।

এমনকী বাবা কান্নাকাটি করছেন বলেও দাবি করেছিলেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, রোহতকের ডেপুটি কমিশনার অতুল কুমার। তার দাবি, ‘‌তিহারের তুলনায় সুনারিয়া জেলের ব্যবস্থাপনে ঢের ভালো। রাম রহিমের জন্য বাকিদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, প্রতি নিয়ত সেই চেষ্টা চলছে।’‌

তবে জেল চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের তুলনায় আঁটোসাটো করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জেল কর্তৃপক্ষক্ষের আবেদনে জেলের ওপর দিয়ে যাবতীয় ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জেলের মধ্যে মোবাইল জ্যামারের বন্দোবস্ত করতেও ডিজির কাছে আবেদন পৌঁছেছে। রাম রহিমকে এখনই অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। তাই জেল চত্বরের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি রাখা হয়েছে।