প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৭:৫১:১৬

আপেলেও বিষ থাকে!

অনলাইন ডেস্ক :
আমরা জানি, আপেলের অনেক গুণ; এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, এন এ্যাপেল আ ডে কিপ দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে। অর্থ, নিয়মিত আপেল খেলে চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় না। আপেলে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই।

এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোনিউট্রিএন্টস। এটি হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাজ করে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় বলা হয়, যে ফলগুলো ক্রিসপি জাতীয় হয় সেগুলো খাওয়া দাঁতের জন্য ভালো; এগুলো দাঁত পরিষ্কার করে এবং ব্যাকটেরিয়া রোধে কাজ করে।

এসব তথ্য আমরা অনেক আগে থেকেই জানি। কিন্তু আপেলের মাঝেও যে বিষ থাকতে পারে, তা কি জানেন? আসুন এরকম সব তথ্য আজ জেনে নেয়া যাক-

১) স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী হলেও এর মাঝেই বিষের বসবাস। আপেলের বিচিতে সায়ানাইড রয়েছে। তবে ২০০ টি বিচি খাবার পর আপনার শরীরে এর এফেক্ট হবে।

২) সারা বিশ্বে ২০ হাজার জাতের আপেল রয়েছে৷ তবে জার্মানিতে আনুমানিক ১,৫০০ জাতের আপেলের চাষ হলেও এখন ব্যবসায়িক দিক থেকে মাত্র ৫০ রকম জাতের আপেলই ফলানো হয়৷ তবে কোন বীজ থেকে আপেল উৎপন্ন হতে প্রায় ১০ বছর সময় লেগে যায়।

২) আপেলে রয়েছে মিনারেল, আয়রন এবং প্রচুর ভিটামিন যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন৷ যারা নিয়মিত আপেল খায় তাদের শারীরিক সমস্যাও হয় কম৷ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, আপেল কোলেস্টেরল কমাতে এবং ক্যানসার রোধেও সহায়তা করে৷ তাই প্রতিদিন একটি করে আপেল খান, ডাক্তারকে দূরে রাখুন৷

৩) আপেল গলা ব্যথা বা কাশির ওষুধ হিসেবে সাহায্য করে৷ আপেলের চা ‘নার্ভাসনেস’ থেকে কাটিয়ে তোলে৷ আপেলের মাস্ক ত্বককে সুন্দর ও নরম করে, দাঁতও পরিষ্কার রাখে৷ এছাড়া, আপেল ঘুম থেকে জাগতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি সাহায্য করে ভালো ঘুম হতেও৷ তাই আপেলকে বলা হয় কবিরাজি ওষুধ।

৪) আপেলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, যা প্রতিদিন মানুষের শরীরে প্রয়োজন৷ পরিবেশ দূষণের কারণে আজকাল অনেক মানুষের আপেল-অ্যালার্জি দেখা দেয়৷ সেক্ষেত্রে আপেল সরাসরি না খেয়ে সেদ্ধ বা রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা৷

৫) আপেলে যেহেতু ভিটামিন, মিনারেল এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অনেককিছু রয়েছে, তাই আপেল খেয়ে কেউ কেউ ডায়েটিং করেন বা ওজন কমান৷

৬) আপেল এমনই একটি ফল যা খেতে মজা, স্বাস্থ্যকর এবং নানাভাবে খাওয়া যায়৷ ফল হিসেবে তো খাওয়া হয়ই, এছাড়া ভাজি হিসেবে, অন্য রান্নার সঙ্গে, জেলি, সালাদ, আচার, ওয়াইন, জুস, কেক, চকলেট এবং আরো অনেক রকমভাবে!

৭) আপেল খেতেও অনেকে ভয় পায়। মালুসডোমেসটিকাফোবিয়া নামের একটি রোগ রয়েছে, যা আপেল বেশিদিন খেলে হতে পারে।

৮) অনেকে মনে করেন, আপেল খেলে তারুণ্য ফিরে পাওয়া যায়, তবে এই ধারণা একদম ভুল।