প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০১৭, ১২:০৫:৫৪

কমছে না চালের দাম শিগগিরই, বিপাকে ক্রেতারা

rice

অনলাইন ডেস্ক : সম্প্রতি চালের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অতীতের গড়া নিজের রেকর্ড ভাঙার খেলায় মেতেছিল দেশ। তাই বিদেশ থেকে কমমূল্যে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সরকারকে। আমদানি চালের ওপর ধার্য করা শুল্কের হারও ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে শিগগিরই বৃদ্ধি পাওয়া চালের দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বাজারে।

কয়েক দিন আগে ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানি করেছে দেশ। আগামী অক্টোবরে আরো আড়াই লাখ টন চাল আসবে কম্বোডিয়া থেকে। এত চাল আমদানির পরও প্রত্যাশা অনুযায়ী চালের দাম কমছে না। বাজারে মোটা চালের দাম সামান্য কমলেও সরু চালের দাম কমার কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না।

চালের দাম না কমার বিষয়ে আভাস দিচ্ছেন স্বয়ং বিক্রেতারা। তারা মনে করছেন দেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে না।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ এ প্রসঙ্গে জানান, ইন্ডিয়া থেকে চাল আমদানির কারণে মোটা চালের দাম কয়েকদিন কম ছিল। কিন্তু ইন্ডিয়া মোটা চালের দাম বাড়িয়েছে। এ ছাড়া, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হওয়ায় চালের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। চালের আগামী মৌসুম না আসা পর্যন্ত দাম বাড়া ছাড়া কমবে না।

তবে চালের দাম না কমায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। তাদের দাবি, দ্রুত এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিত। কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি কর্মকর্তা আমেনা বেগম বলেন, চালের দামসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে, সে তুলনায় মানুষের আয় বাড়েনি। ফলে জীবন যাত্রা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা।

চলতি সপ্তাহে বাজার ঘুরে দেখা যায়, মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬২ টাকা, মোটা চাল ৪৩ থেকে ৪৭ টাকা, নাজিরশাইল ৬০ থেকে ৬২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নতমানের চাল ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে সবজির দামও যথেষ্ট চড়া। প্রতিকেজি সাদা আলু ২০ থেকে ২২ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চালকুমড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, ঢেঁড়স ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা-চিচিঙ্গা-কাকরোল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কচুরমুখি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, লেবু হালি প্রতি ১৬ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পালং শাক, লালশাক, পুঁইশাক, লাউশাক ইত্যাদি আঁটিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে পেঁয়াজ-রসুনও আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৫ টাকা এবং আমদানি করা পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ৭ থেকে ১০ টাকা বেশি। এছাড়া, দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ও আমদানি করা রসুন ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে চলতি সপ্তাহে মাছের দামে তেমন কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়নি। এ সপ্তাহে আকারভেদে প্রতিকেজি রুই ও কাতলা মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, সরপুঁটি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, হাইব্রিড কৈ মাছ ১৪০ থেকে ১৫০, ভেটকি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, আকারভেদে প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত।

চলতি সপ্তাহে মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। গরুর মাংস ৪৯০ থেকে ৫২০ টাকা, খাসির মাংস ৭৩০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায়। এছাড়া, লেয়ার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০, দেশি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।