প্রকাশ: ২৪ জুন ২০১৭, ১৩:০৪:০৭

“খুশি” ঈদ উৎসব ২০১৭

ঢাকা- যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করি “আপনি কি খুশি ?” কেউ হয়তো বলবেন “হ্যাঁ !” কেউ হয়তো বলবেন “না !” এই “না” এর পিছনে কারণ যদি জানতে চাই তবে হয়তো বলবেন আর্থিক বা মানসিক সমস্যার কথা । নাহ! আমি আপনার মানসিক অবস্থা কিংবা আর্থিক সমস্যা কে ছোট করছি না । আপনার সাপেক্ষে হয়তো আপনার সমস্যাটা অনেক বড় ।

একটিবার ভেবে দেখবেন আপনার থেকেও যারা অসুখী আছে ? যারা সুবিধা বঞ্চিত । দু বেলা ঠিক মতো খেতে পায় না । ঈদ, পূজা, বা পহেলা বৈশাখে পরার মতো নতুন রঙ চঙ্গে কাপড় পায় না । আপনি আমি হয়তো ঈদের পছন্দ মতো জামা না পেয়ে একটু বিষণ্ণ বা মনঃক্ষুণ্ণ । তবে ভাবুন সেই সব শিশুদের কথা যারা কিনা তাদের নিত্যদিনের পরার জন্যই কাপড় পায় না ।

এই ব্যাপারগুলো মাথায় রেখেই “খুশি” ‘র যাত্রা শুরু করি আমরা । খুব বেশিদিন না মাত্র ১১ দিনের মাথায় চিন্তাভাবনা, টাকা কালেকশন, জামা কেনা থেকে শুরু করে ৭১ জন সুবিধা বঞ্চিত বাচ্চাদের হাতে নতুন জামা তুলে দিই আমরা । আমি প্রথমেই জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনি কি খুশি ? একই প্রশ্ন যদি আমাদের “খুশি” ‘র টিমকে জিজ্ঞেস করেন তবে আমরা বলবো “হ্যাঁ! আমরা খুশি” । আমরা খুশি কারণ এতোগুলো বাচ্চার আনন্দিত মুখ দেখতে পেরে । ঈদের আগেই এক ঈদ হয়ে গেলো আমাদের জন্য । প্রতিটা জামা দেবার সময়ে বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে যেই আনন্দটা আমরা উপভোগ করেছি সেটা টাকা পয়সায় কিনতে পাওয়া যায় না । এই আনন্দটা অসীম ।

DSC_1798

শুরুটা যে ঢাক ঢোল পিটিয়ে করেছিলাম আমরা সেটা নয় । আমাদের লক্ষ্যই ছিল অন্যের আনন্দে নিজেরা আনন্দিত হওয়া । সেই আনন্দ ভাগ করে নেয়া । তারই জন্য গত ১২ই জুন,২০১৭ তে কয়েক বন্ধু বান্ধব মিলেই গ্রুপ খুলে বসলাম “খুশি” নামে । নিজেদের বন্ধু-বান্ধবদের জানালাম নিজেদের ইচ্ছার কথা । সবাই যথেষ্ট আগ্রহ দেখাল । একটু খানি ইচ্ছে কিই না করতে পারে ! ঈদের মাত্র কদিন বাকি । সিদ্ধান্ত নিলাম পথশিশুদের আনন্দের মধ্য দিয়েই শুরু হোক আমাদের ঈদ আনন্দ । দেখতে দেখতে আরও অনেক আগ্রহী বান্ধু-বান্ধব এগিয়ে আসলো । যে যা পারলো তাই দিয়েই সহায়তা করলো ।

অনেক খোঁজা খুঁজির পরে একটা জায়গা খুঁজে পেলাম যেখানে সচরাচর সাহায্য বা অনুদান পৌঁছায় না । ঠিক এমনই একটা জায়গা খুজছিলাম আমরা । জায়গাটা নিকুঞ্জ ২, ১ নং রোড, এ ব্লক এর পাশ্ববর্তী‌ বস্তি এলাকা । এর মধ্যেই আমাদের প্রতিনিধি দল তথ্য সংগ্রহে চলে গেলো এবং ৭১ জন বাচ্চার নাম, বয়স, উচ্চতা এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য নিয়ে হাজির হল ।

এবারে শুরু হল কেনাকাটার পালা । এমনিতেই ঈদের বাজার, প্রচন্দ ভীর ঠেলে আমাদের প্রতিনিধিরা বঙ্গবাজারে হাজির হল । প্রত্যেকটা ছেলে ও মেয়ের জন্য আলাদা আলাদা জামা ও পাঞ্জাবী পায়জামা । অনেক আগ্রহ আনন্দের সহিত সব কিছু কেনা সম্পন্ন হল । আর বেঁচে যাওয়া টাকা সবই ইফতারের আয়জনের জন্য রাখা হল । নিজেরাই শ্লোগান ঠিক করলাম “শিশুদের মুখে হাসি, ফোটাবে এবার খুশি” ।

এবার শুধুই অপেক্ষা । অপেক্ষা কবে সেই হাসিমুখগুলোর দেখা পাবো ? কিই বা হবে সেই বাচ্চাদের প্রতিক্রিয়া ? তাদের কেমনটাই বা লাগবে ? তারা কেমনই বা খুশি হবে ? এসব ভেবে ভেবে দিন গুনছিলাম আমরা । অবশেষে কাঙ্ক্ষিত দিনের আগমন । দিনটি ২২শে জুন ২০১৭ । লজ্জা মাখা মাখা সব হাসি মুখ । দেখলেই মন ভালো হয়ে যায় । জন প্রতি একটি জামা ও একটি ইফতারের প্যাকেট । তাদের আনন্দ আমাদের আনন্দের মাত্রা অতি মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়েছিলো । দিন শেষে এতোটুকু বলতে পারি এই মুহূর্তে হয়তো পুরো দুনিয়ায় আমরা একমাত্র সুখী মানুষ ।

এই ছিল আমাদের সামান্য প্রয়াস । আপনার আমার সামান্য ইচ্ছেই বদলে দিতে পারে আমাদের সমাজকে । আমাদের সামর্থ্য হয়তো সামান্য ছিল কিন্তু ইচ্ছেটা ছিল অনেক বড় । সামান্য একটু সৎ সাহস, প্রবল ইচ্ছে শক্তি পুঁজি করেই ৭১ জন পথশিশুর মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি । আমাদের সামান্য উদ্যোগে হয়তো আরও অনেকেই এগিয়ে আসবেন এবং হয়তো ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় পরিসরে এই আয়োজন অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবো ।

এই কামনায় “খুশি” টিম সকলের দোয়া প্রার্থী ।