এভ্রিলের পর এবার বিবাহিত প্রতিযোগী লাবণী

অনলাইন ডেস্ক | সিটিজিসান.কম


বিনোদন:
‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতা নিয়ে বিতর্ক ছাড়ছে না একের পর এক। গত বছর জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলকে নিয়ে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটা একটু দেরিতে হলেও ফিরে এসেছে চলতি বছরেও। সন্ধান মিলেছে এ বছর সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া আরেক বিবাহিত প্রতিযোগীর। তিনি আফরিন সুলতানা লাবণী।

যদিও এবার যাকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে সেই লাবণী চ্যাম্পিয়ন বা প্রথম রানারআপ, দ্বিতীয় রানারআপ কিছুই হতে পারেননি। তার পরও নিয়মে যেহেতু আছে যে, এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে প্রতিযোগীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে, তাই বিতর্ক থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

খবর বলছে, লাবণী বিবাহিত এবং তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি করেছেন লাবণীর সাবেক স্বামী আতাউর রহমান আতিক। তারা জামালপুর সদর বাগেরহাটা কলেজ রোডের বাসিন্দা। আতিক পেশায় ব্যবসায়ী, পাশাপাশি কয়েকটি মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েও কাজ করেছেন তিনি।

আতিকের দেয়া তথ্য মতে, ২০১৪ সালের ১৮ আগস্ট জামালপুর কোর্টে গিয়ে লাবণীকে তিনি বিয়ে করেন। দুই বছর সংসার করার পর ২০১৬ সালের ১৭ মে তাদের ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সের পর লাবণীর নামে দুটি চুরির মামলা করা হয়। যেগুলো এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। গণমাধ্যমে তাদের বিয়ের কাবিননামা ও কাগজপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

লাবণীর স্বামী আতাউরের ভাষ্য মতে, ২০১২ সালের শেষের দিকে তাদের পরিচয় ও প্রেম। আতাউর তখন ঢাকায় থাকতেন। লাবণীর মায়ের চিকিৎসা এবং লাবণীর পেছনে পানির মতো টাকা খরচ করেছেন তিনি। সে সময় রাজধানীর চকবাজারে সামসুল হক টাওয়ারে আতাউরের দুটি দোকান থাকলেও এখন আর নেই।

আতাউরের অভিযোগ, ‘লাবণী আমার অনেক টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ওর নামে চুরির মামলাও করেছি। মামলার এখন চার্জসিট হচ্ছে। এখন সে ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ২০১৬ সালের মামলা ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।’

প্রসঙ্গত, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে জাঁকজমক আয়োজনে ‘মিস ওয়ার্ড বাংলাদেশ ২০১৮’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর সেরা সুন্দরীর মুকুট উঠেছে পিরোজপুরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর মাথায়। তিনি এ বছরের ডিসেম্বরে চিনে অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এর মূল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

যদিও এ বছরের সেরা সুন্দরী ঐশী বিবাহিত না হলেও তিনি যে চ্যাম্পিয়ন হবেন, সেটা গ্র্যান্ড ফিনালের আগে থেকেই নাকি মানুষের মুখে মুখে ছিল। যেটা নিয়ে ছোটখাটো বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। বিতর্ক তৈরি হয় এবারের আসরের বিচারকদের প্রশ্ন করা এবং প্রতিযোগীদের দেয়া হাস্যকর উত্তর নিয়েও।

এর আগে গত বছর বিয়ের খবর গোপন করে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। চ্যাম্পিয়নের মুকুটও প্রথমে উঠেছিল তার মাথায়। কিন্তু গ্র্যান্ড ফিনালের পর দিনই বিয়ের খবর প্রকাশ হওয়ায় কেড়ে নেয়া হয় এভ্রিলের মুকুট। নতুন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হিসেবে পুরান ঢাকার মেয়ে জেসিয়া ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়।

গত বছর এভ্রিলের বিয়ের খবর প্রকাশ করেছিলেন তার সাবেক স্বামী। লাবণীর বেলায়ও তাই ঘটল। এবারের আসরের শুরুতেই আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজের মালিক স্বপ্ন চৌধুরী ঘোষণা করেছিলেন, এ বছর বিয়ের খবর গোপন করে কেউ প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে। কিন্তু লাবণী কি জরিমানার ভেতরে পড়বে? আসর তো শেষ!

সিএস/সিএম